সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

গরু খাওয়া কি হিন্দু ধর্ম সম্মত

গরু খাওয়া কি হিন্দু ধর্ম সম্মত 

গরু নিয়ে কি না হচ্ছে ভারতে। কিছুদিন আগে উত্তর প্রদেশের দাদরি গ্রামে মোহাম্মদ আখলাক নামের ওই ব্যক্তিকে পিটিয়ে আর পাথর ছুড়ে হত্যা করা হয়।ধর্ষণ করা জচ্ছে মোসলমান মেয়েদের।ভারতের হিন্দু জনসমষ্টি গো মাংস খায় না। গো হত্যা ও গো মাংস খাওয়াকে তারা পাপ হিসেবে গণ্য করে। এ প্রসঙ্গে আমরা হিন্দু ধর্মীয় অনুশাসনে গরুর অবস্থান সম্পর্কে আলোকপাত করতে পারি। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসতে পারে আসলেই কি গরু খাওয়া হিন্দু ধর্মে নিষিদ্ধ ?

 স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন,

 "এই ভারতবর্ষেই এমন এক দিন ছিল যখন কোন ব্রাহ্মণ গরুর মাংস না খেলে ব্রাহ্মণই থাকতে পারতেন না। যখন কোন সন্ন্যাসী, রাজা, কিংবা বড় মানুষ বাড়ীতে আসতেন, তখন সবচেয়ে ভালো ষাঁড়টিকে কাটা হতো। (Collected works of Swami Vivekananda, Advaita Asharama,1963, Vol III, page 172)।

ঋগ্বেদের প্রাচীন ভাষ্যকার হিসেবে সায়না চার্যের নাম বিখ্যাত। তাঁর আগেও বিভিন্ন ভাষ্যকার, যেমন স্কন্দস্বামী, নারায়ণ, প্রমুখ ঋগ্বেদের ভাষ্য করেছেন।
ভাষ্যকর আচার্য সায়ন লিখেছেন তার অনুবাদে, "You (O Indra), eat the cattle offered as oblations belonging to the worshippers who cook them for you. (Atharvaveda 9/4/1)"
.
"হে ইন্দ্র গ্রহন কর সেসব গরুর মাংস যা তোমাকে তোমার ভক্তরা রন্ধন করে উৎসর্গ করেছে।"
ঋগ্বেদ ১০/৮৬/১৩ তে গরু রান্না করার কথা পাওয়া যায়।
ঋগ্বেদ ১০/৮৬/১৪ তে ইন্দ্রের জন্য গোবৎস উৎসর্গ করা হয়েছে।
Rig Veda 10.86.১৪ [Indra speaks :] The worshippers dress for me fifteen (and) twenty bulls : I eat them and (become) fat, they fill both sides of my belly ;Indra is above all (the world).

উপনিসদে ও গরু খাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
 ভালো সন্তান পাবার জন্য ষাঁড়ের মাংস খাওয়া উচিত।
 Brihadaranyak Upanishad 6/4/18 suggests a ‘super-scientific’ way of giving birth to a super intelligent child.

এ ব্যাপারে আরো স্পষ্ট বিধান দিয়েছে মনুসংহিতা। মনুসংহিতা ৫/৪৪ বলা হয়েছে, "শ্রুতিবিহিত যে পশুহত্যা, তাহাকে অহিংসাই বলিতে হইবে, যেহেতু বেদ ইহা বলিতেছে।"
অগ্নির কাছে নিবেদনে বলদ, ষাঁড় এবং দুগ্ধহীনা গাভী বলিদানের উল্লেখ আছে। (ঋগবেদ সংহিতা, ১/১৬২/১১-১৩, ৬/১৭/১১,১০/৯১/১৪)।
মহাভারতেও গরু খাওয়ার কথা আছে, মহাভারত বন পর্ব, খন্ড ২০৭, অনুবাদে কিশোরী মোহন গাংগুলি।

বিষ্ণুপুরাণ বলছে,ব্রাহ্মণদের গো-মাংস খাইয়ে হবিষ্য করালে পিতৃগণ ১১ মাস পর্যন্ত তৃপ্ত থাকেন। আর এ স্থায়িত্ব কালই সবচেয়ে দীর্ঘ (বিষ্ণুপুরাণ ৩/১৬)। বৃষের মাংস [বেদ:১/১৬৪/৪৩],মহিষের মাংস [বেদ: ৫/২৯/৮],অজের মাংস [বেদ:১/১৬২/৩] খাওয়া হত। আরও বলা হয়েছে পরস্বিনী গাভী মানুষের ভজনীয় [বেদ:৪/১/৬]। আর এজন্যই হয়তোবা স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন,
"You will be astonished ifI tell you that, according to the old ceremonials, he is not a good Hindu who does not eat beef. On certain occasions he must sacrifice a bull and eat it. [The complete works of Swami Vivekananda, Volume 3, Pg 536]"

জগত গুরু আদি শংকরাচার্য,যিনি ৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহন করেন। তিনি অদ্বৈত বেদান্ত শাখার প্রতিষ্ঠাতা। শংকরাচার্যের গীতাভাষ্য হিন্দু ধর্মীয় পন্ডিত মহলে অত্যন্ত বিখ্যাত। তিনি ব্রাক্ষসুত্র অধ্যায় ৩, পাদ্য ১, সূত্র ২৫ এ লিখেছেন, "যজ্ঞে পশু হত্যা পাপ হিসেবে বিবেচিত হবে না, কারন শাস্ত্রই ইহার অনুমোদন দিয়েছে।”

বেদে স্পষ্ট ভাবে গরু খাওয়ার কথা থাকলেও হিন্দুরা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।
হিন্দুরা হাজির করে ঋগ্বেদ (৭/৫৬/১৭) এই শ্লোক। ঋগবেদের ঐ শ্লোকে নাকি গোহত্যা কে মানুষ হত্যার সমকক্ষ বলা হয়েছে। নীচে তুলসীরামের উক্ত শ্লোকের অনুবাদ দিলাম দেখুন তো এরকম কিছু আছে কিনা।

এরপর আবার হিন্দুরা ,অথর্ব বেদের (৮/৩/১৫) এই শ্লোক দেখায় যেখানে বলা হয়েছে গো হত্যা ও ঘোড়া হত্যা উভয়ই নিষিদ্ধ। এখানে হিন্দুরা সত্য লুকিয়ে লেখে ঘোড়ার মাংস ও যেকোন প্রানীর মাংস খেতে নিষেধ করেছে। কিন্তু সত্য হলো ঐ শ্লোকে বলা হয়েছে,

- যারা বহিঃশত্রু দেশকে আক্রমণ করবে এবং প্রানীর মাংস, ঘোড়ার মাংস ও মানুষের মাংস খায় তাদেরকে হত্যা কর। ধারাবাহিক ভাবে এই মন্ত্রগুলো যেমন ৭,৮,৯ পড়লেই পরিষ্কার বোঝা যাবে।
অথর্ব বেদের (৮/৩/১৫) এই শ্লোকে স্পষ্টভাবে গরুর দুধ গ্রহনকারীরও একি শাস্তি দেয়ার কথা আছে। তার মানে কি গরুর দুধ খাওয়াও বেদের নিষেধ ? এটি আরো স্পষ্ট আছে ১৭ নাম্বার মন্ত্রে, এখানে বলা গরুর দুধ যে খায় তার বুকে বর্শা মারার কথা।

এখন এই মন্ত্রগুলোর অর্থ সার্বজনীন ভাবে নিলে হিন্দুরা কি বলবে যে বেদ অনুসারে দুধ খাওয়াও মানা ? এরপর হিন্দুরা ঋগ্বেদের ১/১৬৪/৮০ এবং অথর্ব বেদের ৯/১০/২০ ও ৭/৭৩/১১ এইসব শ্লোক দেখিয়ে বলে এইসব শ্লোকে গরুকে (আঘ্ন্যা) বলা হয়েছে। আঘ্ন্যা মানে যাকে হত্যা করা উচিত নয় । অথচ এইসব শ্লোকে শুধুমাত্র মা গরুকে অর্থাৎ যে গরু থেকে দুধ পাওয়া যায় সেই গরুর প্রসংগে (আঘ্ন্যা) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে অর্থাৎ যে গরু দুধ দেয় সেই গরু হত্যা করতে নিষেধ করা হয়েছে। নীচের স্ক্রীনশটে দেখুন (ঋগ্বেদ ১/১৬৪/৮০) শ্লোকের তুলসীরামের অনুবাদ। তুলসীরাম লিখেছেন,Invioable ( (আঘ্ন্যা) as Mother Cow.

তুলসীরাম অথর্ব বেদ ৯/১০/২০ শ্লোকেও একই কথা লিখেছেন, Invioable (আঘ্ন্যা) as Mother Cow. হিন্দুরা আবার হাজির করে ঋগ্বেদের ৮/১০১/১৫ এই শ্লোক.... (Do not kill the cow. Cow is innocent and aditi – that ought not to be cut into pieces)

মহাত্মা গান্ধী বলেছেন,
"I know there are scholars who tell us that cow-sacrifice is mentioned in the Vedas. I… read a sentence in our Sanskrit text-book to the effect that Brahmins of old (period) used to eat beef. ( M.K.Gandhi, Hindu Dharma, New Delhi, 1991, p. 120).
 অর্থাৎ, "আমি জানি (কিছু সংখ্যক পণ্ডিত আমাদের বলেছেন) বেদে গো-উৎসর্গ করার কথা উল্লেখ আছে। আমি আমাদের সংস্কৃত বইয়ে এরূপ বাক্য পড়েছি যে,পূর্বে ব্রাহ্মণরা গো-মাংস ভক্ষণ করতেন।" (হিন্দুধর্ম,এম.কে. গান্ধী,নিউ দিল্লি,১৯৯১,পৃ. ১২০)॥
. অতএব এবার নিশ্চয়ই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় গরু খাওয়া হিন্দু ধর্ম সম্মত।

বৃহস্পতিবার, ১৪ জুলাই, ২০১৬

জুমার নামাজে সারাদেশে একই খুতবা


জুমার নামাজে সারাদেশে একই খুতবা

 মহানবী (সা.)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পর কুবার মসজিদে প্রথম জুমার নামাজ আদায় করা হয়। এতে রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজেই ইমামতি করেন। এদিন জুমার নামাজের আগে তিনি দুটি খুতবা প্রদান করেন। তখন থেকেই শুক্রবারে জুমার নামাজের জামাতের আগে দুটি খুতবা প্রদানের প্রথা প্রচলিত হয়। নবী করিম (সা.)-এর সময় ইসলাম আরব উপদ্বীপেই সীমাবদ্ধ ছিল। তাদের মাতৃভাষা ছিল আরবি। খুলাফায়ে রাশেদিনের আমলে ইসলাম বিস্তৃতি লাভ করে। ফলে এসব অঞ্চলে আরবি ভাষা দ্রুত বিভিন্ন ভাষাভাষী মানুষের ভাবের আদান-প্রদানের মাধ্যম হিসেবে পরিণত হয়েছিল। তাই স্বভাবতই জুমার নামাজের খুতবা আরবিতে প্রদান করা হতো।আরবি ‘খুতবা’ শব্দের অর্থ বক্তব্য, উপদেশ, বক্তৃতা বা ভাষণ। রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর যুগ থেকে খুলাফায়ে রাশেদিন, তাবেঈন ও তাবে-তাবেঈনের যুগে মুসলিম জাহানে আরবি ব্যতীত অন্য কোনো ভাষায় জুমার মূল খুতবা প্রদানের দৃষ্টান্ত খুঁজে পাওয়া যায় না। নবী করিম (সা.)-এর পরবর্তীকালে ইসলাম আরব সীমানা পেরিয়ে অনারব অঞ্চলে বিস্তৃতি লাভ করলেও আরবি ছাড়া অন্য কোনো ভাষায় জুমার খুতবা প্রদান হয়নি।

রবিবার, ২৬ জুন, ২০১৬

মানুষের জন্য যা কল্যানকর তাহাই জগত পালকের বানী ও বিশ্বাস


মানুষের জন্য যা কল্যানকর তাহাই জগত পালকের বানী ও বিশ্বাস
 যদি কোন বিশ্বাস বা বানীতে জগত পালকের রহমত ও বরকত না থাকে।
সে বিশ্বাস বা বানী প্রচারে কারো দম্ভ প্রকাশ পায় ।
পার্থিব সুবিধা লাভের সুযোগ সৃষ্টি হয় বা অধিকার লাভের কারণ হয়।
তবে সে বাণী বা বিশ্বাস মানুষদের বিভাজিত করে।
সে বানী বিশ্বাসীরা দেশের সমস্ত সুয়োগ সুবিধা লাভ করে,
একারণে সুবিদাভোগীরা সে বিশ্বাস বা বানীকে বেঁচে থাকার মূল উপলক্ষ্য বলে মনে প্রাণে বিশ্বাস করে।
ফলশ্রুতিতে ঐ সমস্ত ব্যক্তিদের লাভ ও সুবিধা প্রাপ্তির কারণে তাদের মনে অন্ধ বিশ্বাস জন্ম লাভ করে ।
এতে স্বাভাবিক জনকল্যাণ মূলক জ্ঞান বিকশিত হবার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়।
জনকল্যাণমূলক বিষয়গুলো লোক দেখানো অনুষ্ঠানে পরিণত হয়।
কথা ও কাজে কোন মিল পাওয়া যায় না।
ক্ষমতা ভোগ,দম্ভ ও সুবিধা লাভ করাই একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে যায় ।
মুক্ত মত ও মুক্ত চিন্তা শয্য করা হয় না।
নিজের মতের অনুসারী না হলে মানুষদের প্রতিপক্ষ ভাবা হয়,শত্রু সম জ্ঞান করা হয় , ভাল ও মঙ্গলের কথাও তখন পছন্দ হয় না।
বরং  রাষ্ট্রের সুবিধা ভোগী গোষ্টি কর্তৃক বঞ্চিত মানুষগণ অবহেলার কারণ হয় ।এক্ষেত্রে কেউ কেউ প্রকিবাদী হলে তাদেরকে শত্রু হিসাবে গণ্য করা হয়। ।
সমাজে সৃষ্টি করা হয় বিদ্বেষ বৈষম্য।
এই অবস্থায় বৈষম্যের শিকার হওয়া মানুষদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য জ্ঞান করে সুবিধা লাভ কারীরা।
বৈষম্যের শিকার হওয়া মানুষদের এই পরণতির জন্য ক্ষমতা ও সুবিধা লাভকারী কিছু মানুষ দায়ী হলেও,এই অসম পরণতির জন্য বৈষম্য শিকার হওয়া জনগণকেই দায়ী করেন দাম্ভিক সুবিধা ভোগীরা।
যা সুবিধাভোগীদের নিজেকে ছাড়া অপরকে অপমাণিত করার মানষিকতা তৈরী করে অন্ধ বিশ্বাসকেই প্রকট ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে।রাষ্ট্রে অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়,শাসকরা জননিপীড়ণকারী হিসাবে আবর্তীর্ন হয়।সকল কিছু টাকা ও ক্ষমতার দিয়ে পরিমাপ করা হয়।মানবতা পদদলিত হয়।মূলবোধ হাড়িয়ে ফেলে। শান্তি ও অগ্রগতি বাঁধাগ্রস্খ হয় রাষ্ট্রের ।
অভিশপ্ত রাষ্ট্রের সুবিধা ভোগীরা দেশকে ভালবাসার মায়া কান্না করে।নিজেদের সুবিধার জন্য রাষ্ট্রের সম্পদ পাচার করে বিদেশে গড়ে তোলে নিজেদের সুবিধার স্বর্গ।দেশের মানুষ গরীব থাকে বরাবর।যার ফলশ্রুতিতে রাষ্ট্র হয়ে যায় অভিশপ্ত।
অতএব, যে বিশ্বাস বা বানীতে জগৎ পালকের বরকত ও রহমত থাকে,
তা অবলম্বন ও বাস্তবায়নে সমাজের মানুষকে একত্রিত করে ।সমাজে বিরাজ করে শান্তি ও অগ্রগতি।
সে সমাজে আবশ্যিক ভাবে উন্নতি লাভ করে দ্রুত ।
যার জন্য ৪৫ বছর সময়ের প্রয়োজন হয় না।
কারণ, মানুষের জন্য যা কল্যানকর তাহাই জগত পালকের বানী ও বিশ্বাস।

গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাসী হলে দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ব থাকলে ৫ বছরই যথেষ্ঠ সময় হয়।অধিক সময়কাল ক্ষমতায় থাকার প্রয়োজন হয় না।
অগণতান্ত্রিক ভাবে দীর্ঘকাল ক্ষমতায় আকড়ে থাকতে হয় না ।


উদাহরণ-১।একদা বাংলাদেশের চেয়ে অনুন্নত মালশিয়া আজ বাংলাদেশের জন্য মডেল রাষ্ট্র।
               ২।অতীতে সৌদী আরবকে সাহায্য করতো বাংলাদেশ ।আজ তারা বলেন মিসকিন।
ছবি:গুলিস্তান,ঢাকা ।
ছবি কাহিনী :৩ জুন ২০১৬ বাসে করে গুলিস্তান হতে সদরঘাট যাবার সময় এই ছবিটি যখন তুলছিলাম তখন পাশে বসা সহযাত্রী সতর্ক করে বলেছিলেন ক্যামেরাটি যেন জানালার কাছে না নেই ।কারণ আমি জানি ছিনতাইকারী আমার হাত হতে নিমিষের মধ্যে ক্যামেরাটি নিয়ে ভোঁ দৌড় দিবে ।নেয়ার সময় হাত ভেঙ্গে যাবে নাকি মচকে যাবে সেটা ছিনতাইকারীর ধাতব্যের বিষয় থাকবে না।অর্থাৎ ক্যামেরার সাথে হাতটাও আক্রান্ত হতে পারে।সহযাত্রীর সতর্ক বানী শুনে ক্যামেরা হাড়াবার বা হাত ভেঙ্গে যাবার বিষয়টি চিন্তা করছিলাম না । চিন্তা করছিলাম এই কিশোর বয়সী ছেলেরা কেন ছিনতাইকারী হয় ?রাষ্ট্রীয় তথা সামাজিক বৈষম্য কি এর জন্য দায়ী নয় ?রাষ্ট্রের তথা সমাজের দায়িত্ব অবহেলা কি এর জন্য দয়িী নয় ?অল্প বয়সী কিশোর কেন মাদকাসক্ত হবে?এই মাদকের অর্থ সংগ্রহ করার জন্য এরা ছিনতাইকারী রূপে আবির্ভূত হয়।কয়েক বছর আগে খবরে পড়েছিলাম এক ছিনতাইকারীকে ধাওয়া করতে গিয়ে এক পুলিশ ছুরিকাঘাতে নিহত হয়।কেন এমন হয় ?রাষ্ট্রের সম্ভাবনাময় কিশোররা কেন ছিনতাইকারী হবে ?কেন ছিনতাইকারী হবার পরিবেশ রোধ করা যায় না?কেন এমন পরিবেশ সৃষ্টি করা যায় না,যেখানে ছিনতাইকারী হবার সুয়োগ নেই।
বৈষম্যহীন সুন্দর শান্তির সমাজের জন্য আমাদের আর কতোকাল অপেক্ষা করতে হবে?
বেষম্য সমাজের শান্তি নষ্ট করে ।মানুষের অপরাধ প্রবণতা বাড়ায়।
আমরা কি এমন বিশ্বাস করতে পারি না ?এমন বানী প্রচার করতে পারি না?যাতে সমাজে বৈষম্য থাকবে না !সমাজ হবে শান্তির ও কল্যাণকর!

শনিবার, ১২ মার্চ, ২০১৬

হযরত আলী রাঃ এর একটি অসাধারণ বিচক্ষণতা

            কোন এক সময় দুইজন লোক কোথাও যাচ্ছিল, ক্ষুদা অনুভব করায় রাস্তার পাশে দুজনই এক সাথে খেতে বসলো। তাদের একজনের কাছে ছিল ৫টি রুটি এবং অন্যজনের কাছে ছিল ৩টি রুটি। পথিমধ্যে তৃতিয় একজন লোক যাচ্ছিল তাদের পাশ দিয়ে। লোক দু‘জন তৃতীয় ব্যক্তিটিকে ডাক দিয়ে বলল ভাই আসুন আমাদের সাথে খেতে বসুন।
তিনজনই একসাথে বসে খাওয়া দাওয়া শেষ করল এবং তৃতীয় ব্যক্তিটি যাওয়ার সময় তাদের দুজনকে খুশি হয়ে উপহার সরূপ ৮টি দিরহাম দিয়ে গেল। টাকা ভাগ করতে গিয়ে বিপত্তি এই নিয়ে যে,প্রথমজন বলল আমার যেহেতু রুটি ছিল ৫টি সেহেতু আমি পাঁচ টাকা নিবো আর তোমার ছিল তিনটি রুটি তাই তুমি পাবে তিন টাকা। কিন্তু দ্বিতীয়জন এই রায় মেনে না নিয়ে বলল যেহেতু ৮ টাকা দেওয়া হয়েছে তাই সমান সমান অর্থাৎ ৪ টাকা করে ভাগ হবে। কিন্তু আবার প্রথমজন অর্থাৎ ৫ রুটি ওয়ালা এই রায় মেন নিতে রাজি ছিলনা ।
তাই দুজনই হযরত আলী রাঃ এর স্মরণাপন্ন হলেন হলেন এর সমাধানের জন্য।
হয়রত আলী রাঃ পুরো ঘটনার আদ্যপান্থ শুনলেন এবং দ্বিতীয়জন অর্থাৎ তিন রুটি ওয়ালাকে লক্ষ করে বললেন তোমার সাথী তুমি তিন টাকা পাবে বলে যে রায় দিয়েছেন তা মেনে নাও যাতে তুমিই বেশী লাভবান হবে। কিন্তু  আমি রায় দিলে তুমি পাবে মাত্র এক টাকা। দ্বিতীয় ব্যক্তিটি বলল আপনি ন্যায় বিচার করে দিন তাতে যদি আমি এক টাকাও পাই তাই আমি মেনে নেব।
হযরত আলী রাঃ বললেন তোমাদের রুটি ছিল ৮টি আর তোমরা ৮টি রুটি খেয়েছ তিনজনে। তাহলে ধরে নেওয়া যায় প্র্রতিট রুটিতেই তোমাদের অংশিদারিত্ব ছিল (যেহেতু কে কতটুকু খেয়েছ তাঁর সঠিক পরিমাপ তোমাদের কারোরই জানা নাই) অর্থাৎ প্রতিটি রুটিকে তিনটি টুকরোয় বিভক্ত করা হয়েছে যে তিনটি টুকরোর তোমরা প্রত্যেকেই একটি করে ভক্ষণ করেছ। অতএব ৮টি রুটির সমষ্টি হয় ৮*৩=২৪ টি টুকরোতে। সুতরাং তোমরা প্রত্যেকেই খেয়েছ ৮টি করে টুকরো।
এবার হযরত আলী রাঃ আবার দ্বিতীয়জন অর্থাৎ তিন রুটিওয়ালাকে লক্ষ করে বললেন তোমার তিন রুটির সমষ্টি ৯টি টুকরো থেকে তুমি নিজেই খেয়েছ ৮ টুকরো এবং বাকি রইল মাত্র এক টুকরো। আর তৃতীয়জন অর্থাৎ তোমাদের মেহমান যিনি ৮ টাকা দিয়েছিলেন তিনি খেয়েছেন তোমার রুটির বাকি অংশ অর্থাৎ এক টুকরো। আর তোমার সাথী অর্থাৎ যে ৫ রুটির মালিক তার রুটি গুলোর সমষ্টি হয় যথাক্রমে ৫*৩=১৫ টুকরো এবং তোমাদের মেহমান সে ১৫ টুকরো থেকে ভক্ষণ করেছেন ৭ টুকরো রুটি। সুতরাং হিসাব স্পষ্ট যেহেতু তোমার রুটির অংশ থেকে মেহমান গ্রহণ করেছেন এক টুকরো তাই তুমি পাবে এক টাকা এবং তোমার সাথী থেকে গ্রহণ করেছে ৭ টুকরো তাই তোমার সাথী পাবে ৭ টাকা।
লোকটি এমন সূক্ষ বিচার দেখে হতভম্ব হয়ে গেল এবং অবনত মস্তকে হযরত আলী রাঃ এর বিচক্ষণতাপূর্ণ  রায় মেনে নিয়ে এক টাকাতেই সন্তোষ্ট চিত্তে ফিরে গেল।

বুধবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৬

হযরত ঈসা (আঃ) এর মোজেজা ও আল্লাহর বিচার

হযরত ঈসা (আঃ) এর মোজেজা ও আল্লাহর বিচার
এক ব্যক্তি হযরত ঈসা (আঃ)-এর সাথে সফরে রওয়ানা হলো।
হযরত ঈসা (আঃ)-এর সাথে তিনটি রুটি ছিল। একটা নদীর তীরে পৌছে তিনি লোকটিকে নিয়ে দুটি রুটি আহার করলেন এবং পানি পান করার জন্যে নদীতে গেলেন। ফিরে এসে দেখেন অবশিষ্ট রুটিটি নেই।
তিনি সে লোকটিকে জিজ্ঞেস করলেন, “রুটি কে নিয়েছে?”
লোকটি বললো, “আমি জানিনা।”
হযরত ঈসা (আঃ) লোকটিকে নিয়ে আবার রওয়ানা হলেন। রাস্তা চলতে চলতে যখন ক্ষুধার উদ্রেক হলো তখন তিনি দূরে একটি হরিণী দেখলেন। হরিণীর সঙ্গে দুটি বাচ্ছা ছিল। তিনি একটি বাচ্ছাকে ডাকলেন।
বাচ্ছাটি কাছে আসলো। তিনি বাচ্ছাটিকে জবাই করলেন এবং গোশত ভূনা করে সে লোকটিকে নিয়ে আহার করলেন। অতঃপর বললেন, “আল্লাহর হুকুমে জীবিত হয়ে যাও।” সঙ্গে সঙ্গে হরিণের বাচ্চার উচ্ছিষ্ঠ হতে হরিণের বাচ্চাটি জীবিত হয়ে চলে গেল।
হযরত ঈসা (আঃ) লোকটিকে বললেন,
“এ হরিণের বাচ্চা জীবিত হয়ে যাওয়ার মোজেযা যে আল্লাহর ক্ষমতায় দেখালেন তাঁর কসম দিয়ে বলছি, তুমি সত্যি করে বল রুটিটি কে নিয়েছে?।
লোকটি বললো, “আমি জানি না।”

হযরত ঈসা (আঃ) লোকটিকে নিয়ে আবার রওয়ানা হলেন। পাহাড় থেকে ঝর্না হয়ে নেমে আসা একটি নদী সামনে পড়লো।সে নদী পার হওয়া অসম্ভব ছিল।কিন্তু তিনি আল্লাহর কুদরতে লোকটির হাত ধরে নিয়ে পানির উপর হেঁটে নদী পার হলেন।
অতঃপর তিনি বললেন, “যার কুদরতে বিনা নৌকায় নদী পার হওয়ার এ মোজেযা দেখাতে সক্ষম হলাম তার কসম দিয়ে বলছি, তুমি বল রুটি কে নিয়েছে?”
লোকটি আগের মতো জবাব দিল, “আমি জানিনা।”

হযরত ঈসা (আঃ) এক জঙ্গলের কাছে পৌঁছে বালি জমা করলেন।
যখন এক বিরাট বালির স্তূপ হয়ে গেল তখন সে স্তূপ কে লক্ষ্য করে বললেন,
 “হে বালি আল্লাহর হুকুমে সোনা হয়ে যাও।”
তখনই বালির স্তূপটি সোনায় পরিণত হয়ে গেল।
হুযরত ঈসা (আঃ) সে সোনাকে তিন ভাগ করলেন এবং লোকটিকে লক্ষ্য করে বললেন,
“এ তিন ভাগ সোনার মধ্যে এক অংশ আমার, আর এক অংশ তোমার এবং অপর অংশটি যে রুটি নিয়েছে তার।”
একথা শুনে লোকটি সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলো, “রুটি তো আমিই নিয়েছিলাম।”
হযরত ঈসা (আঃ) বললেন, তাহলে সব সোনাই তোমাকে দিলাম;
এ কথা বলে হযরত ঈসা (আঃ)   লোকটিকে পরিত্যাগ করে চলে গেলেন।

রবিবার, ১০ জানুয়ারী, ২০১৬

সবর বা ধৈর্যধারণ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াত ও হাদীসের নির্দেশনা

সবর বা ধৈর্যধারণ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াত ও হাদীসের নির্দেশনা

সবর কী? 
সবরের আভিধানিক অর্থ বাধা দেয়া বা বিরত রাখা।
শরীয়তের ভাষায় সবর বলা হয়, অন্তরকে অস্থির হওয়া থেকে, জিহ্বাকে অভিযোগ করা থেকে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে গাল চাপড়ানো ও বুকের কাপড় ছেড়া থেকে বিরত রাখা।
কারো কারো মতে, এটি হলো মানুষের ভেতরগত একটি উত্তম স্বভাব, যার মাধ্যমে সে অসুন্দর ও অনুত্তম কাজ থেকে বিরত থাকে। এটি মানুষের এক আত্মিক শক্তি যা দিয়ে সে নিজেকে সুস্থ্য ও সুরক্ষিত রাখতে পারে।
জুনায়েদ বাগদাদী রহ. কে সবর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, 'হাসি মুখে তিক্ততার ঢোক গেলা।'
জুন্নুন মিসরী রহ. বলেন, 'আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ থেকে দূরে থাকা, বিপদের সময় শান্ত থাকা এবং জীবনের কুরুক্ষেত্রে দারিদ্রের কষাঘাত সত্ত্বেও অমুখাপেক্ষিতা প্রকাশ করা।'
কারও মতে, 'সবর হলো সুন্দরভাবে বিপদ মোকাবিলা করা।'
আবার কারও মতে, 'বিপদকালে অভিযোগ-অনুযোগ না করে অমুখাপেক্ষিতা প্রকাশ করাই সবর।'
এক বুযুর্গ এক ব্যক্তিকে অন্যের কাছে তার সমস্যা নিয়ে অনুযোগ করতে শুনলেন। তিনি বললেন, 'তুমি ভাই, স্রেফ যে দয়া করে না তার কাছে দয়াকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছো। এর বেশি কিছু করোনি।'
এ সম্পর্কে আরও বলা হয়, 'তুমি যখন মানুষের কাছে অভিযোগ করো, তখন মূলত সদয়ের বিরুদ্ধে নির্দয়ের কাছেই অভিযোগ করো।'
অভিযোগ করাটা দুই ধরনের। একটি হলো, আল্লাহ তা'আলার কাছে অনুযোগ করা। এটি সবর পরিপন্থী নয়। যেমন ইয়াকুব আলাইহিস সালাম বলেন,
قَالَ إِنَّمَا أَشْكُو بَثِّي وَحُزْنِي إِلَى اللَّهِ
'সে বলল, 'আমি আল্লাহর কাছেই আমার দুঃখ বেদনার অভিযোগ জানাচ্ছি। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে আমি যা জানি, তোমরা তা জান না।'[17]
অপরটি হলো, নিজের মুখের বা শরীরের ভাষায় মানুষের কাছে অভিযোগ করা। এটি সবরের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। এটি সবর পরিপন্থী।