EXISTECNS লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
EXISTECNS লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬

গরু খাওয়া কি হিন্দু ধর্ম সম্মত

গরু খাওয়া কি হিন্দু ধর্ম সম্মত 

গরু নিয়ে কি না হচ্ছে ভারতে। কিছুদিন আগে উত্তর প্রদেশের দাদরি গ্রামে মোহাম্মদ আখলাক নামের ওই ব্যক্তিকে পিটিয়ে আর পাথর ছুড়ে হত্যা করা হয়।ধর্ষণ করা জচ্ছে মোসলমান মেয়েদের।ভারতের হিন্দু জনসমষ্টি গো মাংস খায় না। গো হত্যা ও গো মাংস খাওয়াকে তারা পাপ হিসেবে গণ্য করে। এ প্রসঙ্গে আমরা হিন্দু ধর্মীয় অনুশাসনে গরুর অবস্থান সম্পর্কে আলোকপাত করতে পারি। স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসতে পারে আসলেই কি গরু খাওয়া হিন্দু ধর্মে নিষিদ্ধ ?

 স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন,

 "এই ভারতবর্ষেই এমন এক দিন ছিল যখন কোন ব্রাহ্মণ গরুর মাংস না খেলে ব্রাহ্মণই থাকতে পারতেন না। যখন কোন সন্ন্যাসী, রাজা, কিংবা বড় মানুষ বাড়ীতে আসতেন, তখন সবচেয়ে ভালো ষাঁড়টিকে কাটা হতো। (Collected works of Swami Vivekananda, Advaita Asharama,1963, Vol III, page 172)।

ঋগ্বেদের প্রাচীন ভাষ্যকার হিসেবে সায়না চার্যের নাম বিখ্যাত। তাঁর আগেও বিভিন্ন ভাষ্যকার, যেমন স্কন্দস্বামী, নারায়ণ, প্রমুখ ঋগ্বেদের ভাষ্য করেছেন।
ভাষ্যকর আচার্য সায়ন লিখেছেন তার অনুবাদে, "You (O Indra), eat the cattle offered as oblations belonging to the worshippers who cook them for you. (Atharvaveda 9/4/1)"
.
"হে ইন্দ্র গ্রহন কর সেসব গরুর মাংস যা তোমাকে তোমার ভক্তরা রন্ধন করে উৎসর্গ করেছে।"
ঋগ্বেদ ১০/৮৬/১৩ তে গরু রান্না করার কথা পাওয়া যায়।
ঋগ্বেদ ১০/৮৬/১৪ তে ইন্দ্রের জন্য গোবৎস উৎসর্গ করা হয়েছে।
Rig Veda 10.86.১৪ [Indra speaks :] The worshippers dress for me fifteen (and) twenty bulls : I eat them and (become) fat, they fill both sides of my belly ;Indra is above all (the world).

উপনিসদে ও গরু খাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
 ভালো সন্তান পাবার জন্য ষাঁড়ের মাংস খাওয়া উচিত।
 Brihadaranyak Upanishad 6/4/18 suggests a ‘super-scientific’ way of giving birth to a super intelligent child.

এ ব্যাপারে আরো স্পষ্ট বিধান দিয়েছে মনুসংহিতা। মনুসংহিতা ৫/৪৪ বলা হয়েছে, "শ্রুতিবিহিত যে পশুহত্যা, তাহাকে অহিংসাই বলিতে হইবে, যেহেতু বেদ ইহা বলিতেছে।"
অগ্নির কাছে নিবেদনে বলদ, ষাঁড় এবং দুগ্ধহীনা গাভী বলিদানের উল্লেখ আছে। (ঋগবেদ সংহিতা, ১/১৬২/১১-১৩, ৬/১৭/১১,১০/৯১/১৪)।
মহাভারতেও গরু খাওয়ার কথা আছে, মহাভারত বন পর্ব, খন্ড ২০৭, অনুবাদে কিশোরী মোহন গাংগুলি।

বিষ্ণুপুরাণ বলছে,ব্রাহ্মণদের গো-মাংস খাইয়ে হবিষ্য করালে পিতৃগণ ১১ মাস পর্যন্ত তৃপ্ত থাকেন। আর এ স্থায়িত্ব কালই সবচেয়ে দীর্ঘ (বিষ্ণুপুরাণ ৩/১৬)। বৃষের মাংস [বেদ:১/১৬৪/৪৩],মহিষের মাংস [বেদ: ৫/২৯/৮],অজের মাংস [বেদ:১/১৬২/৩] খাওয়া হত। আরও বলা হয়েছে পরস্বিনী গাভী মানুষের ভজনীয় [বেদ:৪/১/৬]। আর এজন্যই হয়তোবা স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন,
"You will be astonished ifI tell you that, according to the old ceremonials, he is not a good Hindu who does not eat beef. On certain occasions he must sacrifice a bull and eat it. [The complete works of Swami Vivekananda, Volume 3, Pg 536]"

জগত গুরু আদি শংকরাচার্য,যিনি ৭৮৮ খ্রিষ্টাব্দে জন্মগ্রহন করেন। তিনি অদ্বৈত বেদান্ত শাখার প্রতিষ্ঠাতা। শংকরাচার্যের গীতাভাষ্য হিন্দু ধর্মীয় পন্ডিত মহলে অত্যন্ত বিখ্যাত। তিনি ব্রাক্ষসুত্র অধ্যায় ৩, পাদ্য ১, সূত্র ২৫ এ লিখেছেন, "যজ্ঞে পশু হত্যা পাপ হিসেবে বিবেচিত হবে না, কারন শাস্ত্রই ইহার অনুমোদন দিয়েছে।”

বেদে স্পষ্ট ভাবে গরু খাওয়ার কথা থাকলেও হিন্দুরা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।
হিন্দুরা হাজির করে ঋগ্বেদ (৭/৫৬/১৭) এই শ্লোক। ঋগবেদের ঐ শ্লোকে নাকি গোহত্যা কে মানুষ হত্যার সমকক্ষ বলা হয়েছে। নীচে তুলসীরামের উক্ত শ্লোকের অনুবাদ দিলাম দেখুন তো এরকম কিছু আছে কিনা।

এরপর আবার হিন্দুরা ,অথর্ব বেদের (৮/৩/১৫) এই শ্লোক দেখায় যেখানে বলা হয়েছে গো হত্যা ও ঘোড়া হত্যা উভয়ই নিষিদ্ধ। এখানে হিন্দুরা সত্য লুকিয়ে লেখে ঘোড়ার মাংস ও যেকোন প্রানীর মাংস খেতে নিষেধ করেছে। কিন্তু সত্য হলো ঐ শ্লোকে বলা হয়েছে,

- যারা বহিঃশত্রু দেশকে আক্রমণ করবে এবং প্রানীর মাংস, ঘোড়ার মাংস ও মানুষের মাংস খায় তাদেরকে হত্যা কর। ধারাবাহিক ভাবে এই মন্ত্রগুলো যেমন ৭,৮,৯ পড়লেই পরিষ্কার বোঝা যাবে।
অথর্ব বেদের (৮/৩/১৫) এই শ্লোকে স্পষ্টভাবে গরুর দুধ গ্রহনকারীরও একি শাস্তি দেয়ার কথা আছে। তার মানে কি গরুর দুধ খাওয়াও বেদের নিষেধ ? এটি আরো স্পষ্ট আছে ১৭ নাম্বার মন্ত্রে, এখানে বলা গরুর দুধ যে খায় তার বুকে বর্শা মারার কথা।

এখন এই মন্ত্রগুলোর অর্থ সার্বজনীন ভাবে নিলে হিন্দুরা কি বলবে যে বেদ অনুসারে দুধ খাওয়াও মানা ? এরপর হিন্দুরা ঋগ্বেদের ১/১৬৪/৮০ এবং অথর্ব বেদের ৯/১০/২০ ও ৭/৭৩/১১ এইসব শ্লোক দেখিয়ে বলে এইসব শ্লোকে গরুকে (আঘ্ন্যা) বলা হয়েছে। আঘ্ন্যা মানে যাকে হত্যা করা উচিত নয় । অথচ এইসব শ্লোকে শুধুমাত্র মা গরুকে অর্থাৎ যে গরু থেকে দুধ পাওয়া যায় সেই গরুর প্রসংগে (আঘ্ন্যা) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে অর্থাৎ যে গরু দুধ দেয় সেই গরু হত্যা করতে নিষেধ করা হয়েছে। নীচের স্ক্রীনশটে দেখুন (ঋগ্বেদ ১/১৬৪/৮০) শ্লোকের তুলসীরামের অনুবাদ। তুলসীরাম লিখেছেন,Invioable ( (আঘ্ন্যা) as Mother Cow.

তুলসীরাম অথর্ব বেদ ৯/১০/২০ শ্লোকেও একই কথা লিখেছেন, Invioable (আঘ্ন্যা) as Mother Cow. হিন্দুরা আবার হাজির করে ঋগ্বেদের ৮/১০১/১৫ এই শ্লোক.... (Do not kill the cow. Cow is innocent and aditi – that ought not to be cut into pieces)

মহাত্মা গান্ধী বলেছেন,
"I know there are scholars who tell us that cow-sacrifice is mentioned in the Vedas. I… read a sentence in our Sanskrit text-book to the effect that Brahmins of old (period) used to eat beef. ( M.K.Gandhi, Hindu Dharma, New Delhi, 1991, p. 120).
 অর্থাৎ, "আমি জানি (কিছু সংখ্যক পণ্ডিত আমাদের বলেছেন) বেদে গো-উৎসর্গ করার কথা উল্লেখ আছে। আমি আমাদের সংস্কৃত বইয়ে এরূপ বাক্য পড়েছি যে,পূর্বে ব্রাহ্মণরা গো-মাংস ভক্ষণ করতেন।" (হিন্দুধর্ম,এম.কে. গান্ধী,নিউ দিল্লি,১৯৯১,পৃ. ১২০)॥
. অতএব এবার নিশ্চয়ই এই সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায় গরু খাওয়া হিন্দু ধর্ম সম্মত।

শনিবার, ১২ মার্চ, ২০১৬

হযরত আলী রাঃ এর একটি অসাধারণ বিচক্ষণতা

            কোন এক সময় দুইজন লোক কোথাও যাচ্ছিল, ক্ষুদা অনুভব করায় রাস্তার পাশে দুজনই এক সাথে খেতে বসলো। তাদের একজনের কাছে ছিল ৫টি রুটি এবং অন্যজনের কাছে ছিল ৩টি রুটি। পথিমধ্যে তৃতিয় একজন লোক যাচ্ছিল তাদের পাশ দিয়ে। লোক দু‘জন তৃতীয় ব্যক্তিটিকে ডাক দিয়ে বলল ভাই আসুন আমাদের সাথে খেতে বসুন।
তিনজনই একসাথে বসে খাওয়া দাওয়া শেষ করল এবং তৃতীয় ব্যক্তিটি যাওয়ার সময় তাদের দুজনকে খুশি হয়ে উপহার সরূপ ৮টি দিরহাম দিয়ে গেল। টাকা ভাগ করতে গিয়ে বিপত্তি এই নিয়ে যে,প্রথমজন বলল আমার যেহেতু রুটি ছিল ৫টি সেহেতু আমি পাঁচ টাকা নিবো আর তোমার ছিল তিনটি রুটি তাই তুমি পাবে তিন টাকা। কিন্তু দ্বিতীয়জন এই রায় মেনে না নিয়ে বলল যেহেতু ৮ টাকা দেওয়া হয়েছে তাই সমান সমান অর্থাৎ ৪ টাকা করে ভাগ হবে। কিন্তু আবার প্রথমজন অর্থাৎ ৫ রুটি ওয়ালা এই রায় মেন নিতে রাজি ছিলনা ।
তাই দুজনই হযরত আলী রাঃ এর স্মরণাপন্ন হলেন হলেন এর সমাধানের জন্য।
হয়রত আলী রাঃ পুরো ঘটনার আদ্যপান্থ শুনলেন এবং দ্বিতীয়জন অর্থাৎ তিন রুটি ওয়ালাকে লক্ষ করে বললেন তোমার সাথী তুমি তিন টাকা পাবে বলে যে রায় দিয়েছেন তা মেনে নাও যাতে তুমিই বেশী লাভবান হবে। কিন্তু  আমি রায় দিলে তুমি পাবে মাত্র এক টাকা। দ্বিতীয় ব্যক্তিটি বলল আপনি ন্যায় বিচার করে দিন তাতে যদি আমি এক টাকাও পাই তাই আমি মেনে নেব।
হযরত আলী রাঃ বললেন তোমাদের রুটি ছিল ৮টি আর তোমরা ৮টি রুটি খেয়েছ তিনজনে। তাহলে ধরে নেওয়া যায় প্র্রতিট রুটিতেই তোমাদের অংশিদারিত্ব ছিল (যেহেতু কে কতটুকু খেয়েছ তাঁর সঠিক পরিমাপ তোমাদের কারোরই জানা নাই) অর্থাৎ প্রতিটি রুটিকে তিনটি টুকরোয় বিভক্ত করা হয়েছে যে তিনটি টুকরোর তোমরা প্রত্যেকেই একটি করে ভক্ষণ করেছ। অতএব ৮টি রুটির সমষ্টি হয় ৮*৩=২৪ টি টুকরোতে। সুতরাং তোমরা প্রত্যেকেই খেয়েছ ৮টি করে টুকরো।
এবার হযরত আলী রাঃ আবার দ্বিতীয়জন অর্থাৎ তিন রুটিওয়ালাকে লক্ষ করে বললেন তোমার তিন রুটির সমষ্টি ৯টি টুকরো থেকে তুমি নিজেই খেয়েছ ৮ টুকরো এবং বাকি রইল মাত্র এক টুকরো। আর তৃতীয়জন অর্থাৎ তোমাদের মেহমান যিনি ৮ টাকা দিয়েছিলেন তিনি খেয়েছেন তোমার রুটির বাকি অংশ অর্থাৎ এক টুকরো। আর তোমার সাথী অর্থাৎ যে ৫ রুটির মালিক তার রুটি গুলোর সমষ্টি হয় যথাক্রমে ৫*৩=১৫ টুকরো এবং তোমাদের মেহমান সে ১৫ টুকরো থেকে ভক্ষণ করেছেন ৭ টুকরো রুটি। সুতরাং হিসাব স্পষ্ট যেহেতু তোমার রুটির অংশ থেকে মেহমান গ্রহণ করেছেন এক টুকরো তাই তুমি পাবে এক টাকা এবং তোমার সাথী থেকে গ্রহণ করেছে ৭ টুকরো তাই তোমার সাথী পাবে ৭ টাকা।
লোকটি এমন সূক্ষ বিচার দেখে হতভম্ব হয়ে গেল এবং অবনত মস্তকে হযরত আলী রাঃ এর বিচক্ষণতাপূর্ণ  রায় মেনে নিয়ে এক টাকাতেই সন্তোষ্ট চিত্তে ফিরে গেল।

রবিবার, ১০ জানুয়ারি, ২০১৬

সবর বা ধৈর্যধারণ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াত ও হাদীসের নির্দেশনা

সবর বা ধৈর্যধারণ সম্পর্কিত কোরআনের আয়াত ও হাদীসের নির্দেশনা

সবর কী? 
সবরের আভিধানিক অর্থ বাধা দেয়া বা বিরত রাখা।
শরীয়তের ভাষায় সবর বলা হয়, অন্তরকে অস্থির হওয়া থেকে, জিহ্বাকে অভিযোগ করা থেকে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গকে গাল চাপড়ানো ও বুকের কাপড় ছেড়া থেকে বিরত রাখা।
কারো কারো মতে, এটি হলো মানুষের ভেতরগত একটি উত্তম স্বভাব, যার মাধ্যমে সে অসুন্দর ও অনুত্তম কাজ থেকে বিরত থাকে। এটি মানুষের এক আত্মিক শক্তি যা দিয়ে সে নিজেকে সুস্থ্য ও সুরক্ষিত রাখতে পারে।
জুনায়েদ বাগদাদী রহ. কে সবর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, 'হাসি মুখে তিক্ততার ঢোক গেলা।'
জুন্নুন মিসরী রহ. বলেন, 'আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ থেকে দূরে থাকা, বিপদের সময় শান্ত থাকা এবং জীবনের কুরুক্ষেত্রে দারিদ্রের কষাঘাত সত্ত্বেও অমুখাপেক্ষিতা প্রকাশ করা।'
কারও মতে, 'সবর হলো সুন্দরভাবে বিপদ মোকাবিলা করা।'
আবার কারও মতে, 'বিপদকালে অভিযোগ-অনুযোগ না করে অমুখাপেক্ষিতা প্রকাশ করাই সবর।'
এক বুযুর্গ এক ব্যক্তিকে অন্যের কাছে তার সমস্যা নিয়ে অনুযোগ করতে শুনলেন। তিনি বললেন, 'তুমি ভাই, স্রেফ যে দয়া করে না তার কাছে দয়াকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছো। এর বেশি কিছু করোনি।'
এ সম্পর্কে আরও বলা হয়, 'তুমি যখন মানুষের কাছে অভিযোগ করো, তখন মূলত সদয়ের বিরুদ্ধে নির্দয়ের কাছেই অভিযোগ করো।'
অভিযোগ করাটা দুই ধরনের। একটি হলো, আল্লাহ তা'আলার কাছে অনুযোগ করা। এটি সবর পরিপন্থী নয়। যেমন ইয়াকুব আলাইহিস সালাম বলেন,
قَالَ إِنَّمَا أَشْكُو بَثِّي وَحُزْنِي إِلَى اللَّهِ
'সে বলল, 'আমি আল্লাহর কাছেই আমার দুঃখ বেদনার অভিযোগ জানাচ্ছি। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে আমি যা জানি, তোমরা তা জান না।'[17]
অপরটি হলো, নিজের মুখের বা শরীরের ভাষায় মানুষের কাছে অভিযোগ করা। এটি সবরের সঙ্গে সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক। এটি সবর পরিপন্থী।

শনিবার, ৭ নভেম্বর, ২০১৫

কল্কি অবতার কে ? মহানবী (সাঃ) ?

কল্কি অবতার কে ? মহানবী (সাঃ) ?

হিন্দু ধর্মে দশ অবতারের কথা বলা হয়েছে । এ দশ আবতারের সর্বশেষ অবতার হচ্ছে 'কল্কি অবতার' । তেমনিভাবে ইসলামী বর্ণনায় হযরত আদম (আঃ) থেকে শুরু করে হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) পর্যন্ত সকল নবী-রাসূলগণের মধ্যে সর্বশেষ নবী-রাসূল হলেন ইসলামের নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) । কল্কি অবতারের পর আর কোন অবতার হবে কি-না এর কোন ইঙ্গিত হিন্দু মিথলজীতে আছে বলে আমাদের জানা নাই । তেমনিভাবে ইসলামী শাস্ত্রগ্রন্হে বহুল প্রমাণিত যে, হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) একমাত্র 'খাতামুন নাবীঈন' বা শেষ নবী । তার পরে আর কোন নবী-রাসূল পৃথিবীতে আগমণ করবেন না । অর্থাৎ আল্লাহ পাক হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এর পর থেকে কিয়ামত পর্যন্ত রিসালতের দরজা চিরতরে বন্ধ করে দিয়েছেন । পবিত্র কোরআন মজীদ সুষ্পষ্ট ঘোষণা করেছেঃ

" বরং তিনি [মোহাম্মদ (সাঃ)] আল্লাহর রাসূল এবং শেষ নবী" [৩৩/৪০]

ফলে 'কল্কি' অবতারই যে, আখেরী নবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) তা নির্দ্বিধায় বলা যায় । কেননা, পন্ডিতগণ প্রমাণ করেছেনঃ 'কল্ক' অর্থ 'পাপ' আর 'কল্কি' অর্থ পাপ বিনাশকারী । কলিযুগের শেষে পৃথিবী যখন পাপে পরিপূর্ণ হবে তখন কল্কি বা পাপ বিনাশকারী অবতার আগমণ করবেন ।

কলিযুগে কল্কির অবতার প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা করেছেন প্রাবন্ধিক প্রিন্সিপাল মাজেদুর রহমান । তিনি তার 'নবী-রাসূল-অবতার-সন্দেষ্টা-প্রফেট-তীর্থকর' প্রবন্ধে আলোচনা, যুক্তি, পুরাণ এবং বৈদিক শ্লোকাদির উদ্ধৃতিসহকারে প্রমাণ করেছেন যে, কল্কি অবতার-ই শেষনবী হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) । বিভিন্ন শাস্ত্রগ্রন্হে কল্কি অবতারের যে গুণ এবং বৈশিষ্ট্য বর্ণিত হয়েছে, তাতে কোথাও রূপকার্থে এবং কোথাও সরাসরিভাবে চিহ্নিত করা যায় বিধায় 'কল্কি' অবতারই যে হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) এ কথা নিম্নোক্তভাবে প্রমাণিত । যথাঃ

১. "শম্ভলে বিষ্ঞুযশামে গৃহে প্রার্দুভাবাম্যহম সুমাতাং বিষ্ঞু যশম্য গর্ভ মাধব বৈষ্ঞবম " । (কল্কি পুরাণ; ২/১৯ অংশ শ্লোক)

অর্থাৎ - শম্ভল শহরের প্রধান পুরোহিত গৃহে তিনি জন্মগ্রহণ করবেন । তার পিতার নাম হবে বিষ্ঞুযশম এবং মাতার নাম হবে সুমতী (সোমবর্তী) ।

২. "দ্বাদশ্যাং শুল্লপক্ষস্য মাধবে মনি মাধবম " । ( কল্কি পুরাণ; ২/২৫)

অর্থাৎ- তিনি শুল্কপক্ষের দ্বাদশ তিথিঃ মাধব মাসে (বৈশাখ মাসে) জন্মগ্রহণ করবেন ।

৩. অশ্বমাশুগমারূহ্য দেবদত্তঃ জগৎপতিঃ ।
আমিনা সাধু দমন অইষ্টশ্বর্য গুণান্বিত" (শ্রীমদ্ভাবগত; ১২/২-১৯ শ্লোক)

অর্থাৎ- "অষ্ট ঐশ্বর্য ও গুণে গুণান্বিত জগৎপতি দেবতা কর্তৃক প্রদ্ত্ত বেগবান অশ্ব পৃষ্ঠে আরোহণ করবেন । তিনি অসি বা তরবারী দ্বারা দুষ্কৃতদের দমন করবেন "

৪. "বিচারন্নাশূণ্য ক্ষৌণাৎ হষেণা প্রতিমদ্যুতি নুপলিঙ্গচ্ছেদ্য দস্যূ ন কোটি শোনিহ নিয্য " । (শ্রীমদ্ভাবগত; ১২/২-২০ শ্লোক)

অর্থাৎ- তিনি দ্রুত গমনশীল অশ্বে বিচরণকারী অপ্রতিম কান্তিময়ঃ তার গুপ্তাঙ্গের অগ্রভাগ ছেদিত । রাজা বেশে অসংখ্য গুপ্ত দূস্যকে সংহার করবেন ।

৫. "সাত যয়ং তুবং দেবা সাঃ শাবত রণে রাতাঃ " ( কল্কি পুরাণ; ২/৭)

অর্থাৎ- যুদ্ধক্ষেত্রে দেবতারা তাকে সাহায্য করবেন ।

৬. নরাশংস মিহপ্রিয় মশ্মিনা উপবায় মধুজিহবৎ হবিষ্কতম " । (ঋগ্বেদ;১০ মন্ডল;১৩ যু্ক্ত; ৩ সং)

অর্থাৎ- "নরাশংসের বাক্যালাপ সুমিষ্টযুক্ত " ।

--উপরোক্ত উদ্ধৃতিগুলোর প্রতি সূক্ষ আলোচনার প্রেক্ষিতে আলোকপাত করলে সহজেই বোধগম্য হয় যে মূলত কল্কিপুরাণ, শ্রীমদ্ভাগবতসহ অন্যান্য ধর্মগ্রন্হে কল্কি অবতার তথা হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) -এর আগমণের পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে ।

শনিবার, ৩ অক্টোবর, ২০১৫

হযরত শাহজালাল(র:)


হযরত শাহজালাল (র:) ছিলেন দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ ওলিদের মধ্যে অন্যতম।তিনি বাংলা ও আসাম অঞ্চলে ইসলাম প্রচারে আগত আউলিয়াদের পথিকৃত।এ কারণে হযরত শাহজালাল (র)কে বাংলাদেশে আওলিয়াকূল শিরোমনি হিসাবে শ্রদ্ধা করা হয়।তাঁর নেতৃত্বে গড়ে উঠেছিল এক মুজাহিদ বাহিনী।যাঁরা জীবনভর ত্যাগ ও মেহনতের মাধ্যমে বাংলা ও আসামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইসলামের শাশ্বত বাণী ও তৌহিদের সুমহান পয়গাম পৌঁছে দেন। ফলে আজ বাংলাদেশ একটি সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম রাষ্ট্র হিসাবে বিশ্বে পরিচিতি লাভ করেছে।
 
হযরত শাহজালাল (র:) হিজরী পঞ্চম শতাব্দীর শেষ দশকে ৫৯৬ হিজরী ১১৯৬ খ্রিষ্টাব্দে জন্ম গ্রহণ করেন।তাঁর পিতার নাম ছিল মোহাম্মদ মাতার নাম সৈয়দা ফাতিমা
শায়খ বা শেখ সাধনাগত উপাধি।।সাধনায় যিনি সিদ্ধি লাভ করেন করেন তিনি শায়খ বা শেখ উপাধি লাভ করেন।শায়ক অর্থ বুজর্গও বুঝায়।শাহ শব্দও একই অর্থে ব্যবহৃত হয়ে থাকে।ফার্সী শাহ ও আরবী শায়ক বা শেখ শব্দ দুটি একই অর্থ বহন করে।
সিলেট শহরের প্রাণ কেন্দ্রে একটি মনোরম নাতি উঁচু টিলার উপর হযরত শাহজালাল (র:) এঁর মাজার শরীফ অবস্থিত।অগণিত ফকির দরবেশ আশেকান হৃদয়ে তাপ বিদগ্ধ মানব কূলের কাছে হযরত শাহজালাল (র:) দরগাহ শরীফ পূন্যতীর্থ হিসাবে সর্বজনমান্য।এখানে এসে আশেকান লাভ করেন হৃদয়ে অনাবিল প্রশান্তি।পীর,ফকির,সাধক দরবেশগণ লাভ করেন আধ্যাতিক জ্যেতির সন্ধান।জীবন সংগ্রামে পর্যূদস্তু আর ঘাত প্রতিঘাতে বিপর্যস্ত আদম লাভ করেন জীবনের ক্লেশ মুক্তির ইশারা ।মারেফাতের আবেহায়াত সন্ধানী পীর ফকির সুফি দরবেশ সংসার ত্যাগী মানব সন্তান আলেম ওলামা লাভ করেন বাতেনী ইলমের আবেহায়াত।
সিলেটের পবিত্র ধূলাবালির পরতে পরতে রয়েছে আল্লাহ পাকের অফুরন্ত কুদরতের লীলাখেলা।এখানকার পথ প্রান্তর,হাওর-জঙ্গল আর দিগন্ত বিস্তৃত বিশাল সবুজ জমিনের চোখ জুড়ানো মন ভোলানো প্রাকৃতিক পরিবেশে রয়েছে পীর-ফকির,সূফি-দরবেশ,গাউস-কুতুব,বাউল-বৈরাগীর নীরব সাধনার ক্ষেত্র।
হযরত শাহজালাল (র:) এঁর রুহানী শক্তিতে সিলেটের জমিনে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা লাভ করে ১৩০৩ খ্রিষ্টাব্দে।মুজাহিদ বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়েছিলেন সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দিন (র:)।সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দিন (র:) এঁর নেতৃত্বে সিলেট বিজয়ের পর গৌড়গবিন্দের সমসাময়িক রাজা আচাক নারায়নের রাজ্য রাজপুর বা তুঙ্গাচল বা তরপ (হবিগঞ্জ জেলা)বিজিত হয়।সিপাহসালার সৈয়দ নাসির উদ্দিন (র:) এঁর নেতৃত্বে অভিযানে বারোজন আউলিয়া অংশ গ্রহণ করেছিলেন বলে তরপকে(হবিগঞ্জ জেলা) বার আউলিয়ার দেশ বলে অভিহিত করা হয়।
হযরত শাহজালাল (র:) আধ্যাত্মিক শিক্ষা গ্রহণ করার পর সৈয়দ আহমদ (র:) এঁর নিকট হতে খিলাফত লাভ করেন।অত:পর তিনি পীরের অনুমতি নিয়ে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে সাতশত অনুচর সহ মাতৃভূমি ত্যাগ করেন।এ সময়ে দুর্ধর্ষ মোঙ্গলরা মধ্য ও পশ্চিম এশিয়ার মুসলিম শাসন ও সংস্কৃতি ধ্বংশ করে চলেছিল।তিনি মনে করলেন মোসলমানদের রক্ষায় আল্লাহর পথে জিহাদ করা তাঁর পবিত্র দায়িত্ব এবং তিনি এই পবিত্র দায়িত্ব পালনে সিদ্ধান্তে উপনীত হলেন। ইবনে বতুতার মতে,১২৫৮ খ্রিষ্টাব্দে যথন হালাকু খান শেষ আব্বাসীয় খলিফা মুস্তাসিম বিল্লাহকে হত্যা করেন ও তার রাজধানী লুন্ঠন করেন তখন হযরত শাহজালাল(র:)বাগদাদে উপস্থিত ছিলেন।বিদায় কালে হযরত শাহজালাল (র:) এঁর মুর্শিদ আরবের কোন এক স্থানের এক মুটো মাটি দিয়ে বলেছিলেন,-
‘যেখানের মাটির স্বাদ,বর্ণ ও গন্ধ এ মাটির সাথে মিলে যাবে,সেখানে আস্তানা স্থাপন করে ইসলাম প্রচার করবে।’
মাটি পরীক্ষার ভার যে দরবেশের উপর ন্যাস্থ ছিল তাঁর উপাধি দেয়া হয় ‘চাশনীপীর’।
তিনি দিল্লীতে এসে হযরত নিযাম উদ্দীন আউলিয়া (র:)এঁর সাথে মোলাকাত করেন।হযরত নিযাম উদ্দীন আউলিয়া (র:) তাঁকে একজোড়া সুরমা রংয়ের কবুতর উপহার দেন,যা জালালী কবুতর নামে পরিচিত।
অত:পর তিনি সাথীদের নিয়ে বাংলোর দিকে অগ্রসর হন।সেনাপতি সিকান্দর গাজীকে সিলেট বিজয়ে সাহায্য করেন।
সিলেটের অত্যাচারী রাজা  গৌড়গোবিন্দ কর্তৃক জনৈক শায়খ বুরহান উদ্দীন (র:) প্রতি অত্যাচারের প্রতিবিধানার্থে বাংলার সুলতান শামসউদ্দীন ফিরোজ শাহ তাঁর ভাগ্নে সিকান্দর গাজীকে সিলেটে প্রেরণ করেন।চলার পথে সিকান্দর গাজী সোনারগাঁও দখল করেন।কিন্তু গৌড়গোবিন্দের কাছে সফল হতে পারেননি। তিনি গৌড়গোবিন্দের বিরোদ্ধে যুদ্ধে তিনবার বিফল হন।অত:পর দিল্লীর সুলতান আলাউদ্দীন খিলজি(১২০৬-১৩৮৬ খিষ্টাব্দ)তাঁর সেনাপতি সৈয়দ নাসির উদ্দিনকে সিকান্দর গাজীর সাহায্যার্থে প্রেরণ করেন।হযরত শাহজালাল (র:) ও তাঁর ৩৬০ জন আউলিয়া সেখানে উপস্থিত হন।সাতগাঁওয়ের নিকট ত্রিবিনীতে সৈন্য দলের মধ্যে হযরত শাহজালাল (র:) ও তাঁর মুজাহিদ বাহিনীর উপস্থিতির ফলে সেনাদল নৈতিক শক্তিতে বলীয়ান হয়ে উঠে ।সম্মিলিত সেনাবাহিনী এবার সিলেট বিজয়ে কৃতকার্য হন।
সিলেটের মাটির সাথে মুর্শিদ প্রদত্ত মাটি হুবাহু মিলে যায় ।তিনি সিলেটে আস্তানা স্থাপন করেন এবং ধর্ম প্রচার ও মানব সেবায় আত্মনিয়োগ করেন।স্থানীয় লোকদের মধ্যে ইসলাম প্রচার নৈতিক শিক্ষা দেয়ার জন্য তিনি বিজিত এলাকার ভার কয়েকজন শিষ্যের উপর ন্যাস্থ করে তাঁর সাথী ৩৬০ আউলিয়ার মাধ্যমে সারা বাংলা ও ভারতের করিমপুরে ইসলামের তৌহিদের শ্বাশত বানী প্রচার করেন।
ইবনে বতুতার  বর্ণনায় তাঁর সংযম,নিষ্ঠা ও সেবাধর্মী জীবনের পরিচয় পাওয়া যায়।এই মুর দেশীয় পরিব্রাজক ইবনে বতুতা যখন তাঁর সাথে স্বাক্ষাত করেন,তখন  তিনি খুবই বৃদ্ধ বয়সে উপনীত ।হযরত শাহজালাল (র:)  ক্ষীণকায় ও লম্বা আকৃতির ছিলেন।তাঁর অল্প দাড়ি ছিল।তিনি প্রায় চল্লিশ বছর একাধারে রোজা রেখেছেন।দশদিন অন্তর রোজা ভাংতেন।তাঁর একটি গাভী ছিল।সেই গাভীর দুধই ছিল তাঁর একমাত্র প্রধাণ খাদ্য ।তিনি সারারাত আল্লাহর ইবাদতে মশগুল থাকতেন।ইবনে বতুতা আরোও বলেন যে,এই মহান  দরবেশ শায়খের মেহনতের ফলেই ঐ অঞ্চলের অধিবাসীরা ইসলামে দীক্ষিত হয় এবং তাঁর জন্য তিনি তাদের মধ্যে বসতি স্থাপন করেন।তিনি একটি খানকাহ প্রতিষ্ঠা করেন ।এই খানকাহ ছিল সুফি-দরবেশ মুসাফির ও দু:স্থ মানুষের আশ্রয় স্থল।হিন্দু-মোসলমান সকলেই তাঁকে শ্রদ্ধা করতো।তারা তাঁর জন্য নানা প্রকার থাদ্য সামদ্রী ও নিয়াজ নজর আনতো।এগুলো দিয়েই আস্তানার লোকদের খাওয়ানো হতো।

তাঁর মহত আদর্শ জনগণের মনে এমন গভীর ভাবে রেখাপাত করেছে যে,তারা তাঁকে একজন অসাধারণ ব্যক্তিত্ব কামেল বুজর্গ ব্যক্তি মনে করে ভক্তি ভরে ছুটে আসে তাঁর মাজার যিয়ারতে।
১৫০ বছর বয়সে ১৩৩৭ সালে এই দরবেশ ইন্তেকাল করেন ।কোন কোন ঐতিহাসিকদের মতে মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৬৩ বছর।তবে ইসলামি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ প্রকাশিত জনাব দেওয়ান নূরুল আনোয়ার হোসেন চৌধুরী রচিত হযরত শাহজালাল (র:) গ্রন্থে তাঁর জীবন কাল ১৫০ বছর বলে উল্লেখ করা হয়েছে ।
 সকল প্রকার শিরক ও বিদআতকে বিনাশ করে দিয়ে আল্লাহর জমিনে আল্লাহর দ্বীনকে প্রতিষ্ঠা করাই ছিল হযরত শাহজালাল (র:) ও তাঁর ৩৬০ জন আউলিয়ার জিন্দেগীর একমাত্র উদ্দেশ্য ।কিন্তু দু:খের বিষয়,শিরক ও বিদআদ সম্পর্কে ব্যাপক ধারণা থাকার কারণে আমরা এই মহান ওলি আউলিয়াদের কবরকেই প্রায় ক্ষেত্রে শিরক ও বিদআতের আখড়া হিসাবে পরিণত করে ফেলেছি,যদিও আমাদের হৃদয়ে ভক্তি শ্রদ্ধার কোন ক্রুটি নেই।শিরক একটি জঘণ্যতম গুনাহের কাজ।শিরক সমস্ত আমলকে বিনাশ করে দেয়।
এ সম্পর্কে আল্লাহ পাক কোরআনে বলেছেন,-
‘যদি তারা শিরক করে থাকে তবে তারা যা কিছু আমল করেছে সব কিছুই বরবাদ হয়ে যাবে’।
শিরক বিদআতের গোনাহ হতে  মহান আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন।
আমিন।।


শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

পবিত্র হজ পালন নিরাপদ নয় কেন হাজীদের ?

মোসলমানরা পবিত্র হজ পালন করবেন।
আল্লাহর নিকট হতে অশেষ রহমত প্রাপ্ত হবেন।
 নিরাপদে দেশে স্বজনদের মাঝে ফিরে আসবেন ।
হজের পবিত্র সুফল যারা হজ করতে সক্ষম নন তাঁদের কাছে পৌঁছাবেন।
 জানাবেন শুনাবেন এবং সাধারণ মোসলমানরা হাজী ব্যক্তির সংস্পর্শে এসে আল্লাহর নিয়ামতের অংশীদার হবেন ।
হাজীদের নির্মল জীবনচরিতে মোসলমানদের জীবন হবে শান্তিময় ।সমাজ হবে শান্তিময় ।
 এটিই আমাদের কাম্য এবং স্বাভাবিক ঘটনা ও  আল্লাহর অশেষ রহমত বলে মনে করি ।

কিন্তু পবিত্র হজ্ব করতে গিয়ে যদি দুর্ঘটনায় হাজী মারা যান ।
তবে নিশ্চই সেটা আল্লাহর রহমত হতে পারে না।যদিও হায়াত মউত আল্লাহর কাছে।

কিন্তু ক্রেন দুর্ঘটনা ও মিনার দুর্ঘটনা সৌদি রাষ্ট্রের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের দায়িত্বে অবহেলার জন্যেই ঘটেছে ।
ভারতে মন্দিরে পদদলিত হয়ে মানুষ মারা যায় ।
এখন মারা গেল পবিত্র মক্কায় ।
এর জবাবে কি বলবেন সৌদি বাদশা ?
হাজীদের মৃত্যুতে কি  তাঁর দায়িত্বে কোন অবহেলা নেই ?

সৌদিতে ক্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখা  ১০৭

মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র স্থান মক্কার মসজিদুল হারামে  ক্রেন দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১০৭ জন হাজী।
 এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আড়াইশ’য়ের মত হাজী।
আহতদের মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়ার নাগরিক রয়েছেন।
ক্রেন ভেঙে পড়ার ঘটনায় অন্তত ৪০ জন বাংলাদেশী আহত হয়েছেন ।
দুর্ঘটনায় পাকিস্তানের ১৪, ভারতের নয় এবং মালয়েশিয়ার ছয় জন আহত হয়েছেন।

লাদেনের ক্রেন :
পত্রিকার খবরে জানা গিয়েছে ক্রেনটি ছিল লাদেনের বা লাদেন পরিবারের ।
এ খবর প্রচার করে সৌদি কর্তৃপক্ষ কি এটা বুঝাতে চাইছেন যে, ক্রেন ভেংগে যাবার জন্য মৃত লাদেন  দায়ী ।
অথবা লাদেন পরিবার দায়ী!?
সৌদি বাদশা কি আমেরিকা হতে কিনা যুদ্ধ বিমান দিয়ে লাদেনের কবরে বোমা বর্ষন করবেন ?
লাদেনের কবরে বোমা বর্ষনের কারণে খুশী হয়ে যাবেন মৃত হাজীদের পরিবার !?
কিন্তু লাদেনের কবরের ঠিকানা কোথায় ?তাঁর যে সলিল সমাধি করা হয়েছে।ঠিকানা অজানা!
ঠিকানা ভুল করে সৌদি বাদশার বোমারু বিমান মোসলমানদের হত্যা করবে নাতো?
তার নিশ্চয়তা কোথায় ?

মিনায় পদদলিত হয়ে নিহত কমপক্ষে ৭১৭ হজযাত্রী

আল্লাহর দরবারে আর্তচিৎকারে নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন হাজিরা এই বলে,
হাজির হে আল্লাহ হাজির, আপনার মহান দরবারে হাজির।
 আপনার কোন শরিক নেই।
সব প্রশংসা, নিয়ামত এবং সব রাজত্ব আপনারই।
 সত্যি এমনভাবে আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে পবিত্র মক্কার মিনায় পদদলিত হয়ে নিহত হলেন কমপক্ষে ৭১৭ হাজী।
সাদা কাপড়ে ঢাকা শুধু লাশ আর লাশ।
 বিক্ষিপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে এসব হাজীর লাশ।
 চলাচলে অক্ষম হাজীরা মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন হুইলচেয়ারে। পাশেই পড়ে আছে পানির বোতল।
দু’টুকরো সাদা কাপড়ে নিথর পড়ে আছেন আল্লাহর মেহমানরা।
অবর্ণনীয় সে দৃশ্য।
হৃদয় বিদারক এসব দৃশ্য চোখে দেখেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠছেন অন্য হাজী ও উদ্ধারকর্মীরা।

মিনায় দুর্ঘটনার জন্য দায়ি সৌদি যুবরাজের গাড়িবহর!

সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের পূত্র প্রিন্স সালমান আল সৌদের গাড়ি বহরের কারণেই
 মিনায় পদদলিত হয়ে ৭১৯ জন হাজি নিহত হয়েছেন বলে একাধিক সংবাদ মাধ্যম দাবি করেছে।
লেবাননের আরবি ভাষার দৈনিক আল দিয়ার এক প্রতিবেদনে জানায়,
হজের তৃতীয় দিনে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটার পেছনে সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ সালমান আল সৌদ
 বিশাল গাড়ি বহর প্রধান ভূমিকা পালন করেছে।
  মিনার পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ উপত্যকায় সৌদি বাদশাহ যাচ্ছিলেন বিশাল হজ জমায়েতে যোগ দিতে।
 তার সঙ্গে ছিল ২০০ সেনাবাহিনী ও ১৫০ পুলিশ সদস্য।
প্রতিবেদনে বলা হয় সৌদি যুবরাজের উপস্থিতি মানুষের চলাচলের মধ্যে বিঘ্ন ঘটায় এবং হঠাৎ করে দিক পরিবর্তন করায় সেটা থেকে হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয় যা থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দৈনিকটি আরো জানায়, ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুতই যুবরাজ ও তার বহর স্থান ত্যাগ করে এবং তার এই জায়গায় যাওয়ার ঘটনা গণমাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে।
দূর্ঘটনার জন্য সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ সালমান আল সৌদের গাড়ি বহরকে দায়ি করে প্রায় একই রকম সংবাদ প্রকাশ করেছে দুবাই থেকে প্রকাশিত পত্রিকা আল-জিদ্দাজ। এছাড়া ভারতে জি-নিউজের এক প্রতিবেদনেও একই দাবি করা হয়েছে।
অবশ্য সৌদি কর্তৃপক্ষ এই প্রতিবেদনকে অসত্য উল্লেখ করে দায়টা হজ করতে আসা মানুষদের উপরেই চাপিয়েছেন।
এ বিষয়ে সৌদি স্বাস্থমন্ত্রী খালেদ আল ফালিহ বলেন, হজযাত্রীরা যদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া সময় মেনে চলতেন তাহলে এই দুর্ঘটনা ঘটতো না।

মোসলমানদের রক্ষায় ব্যর্থ সৌদি বাদশা :
ইরাক যুদ্ধে আমেরিকাকে সামরিক ঘাটি,বিমান ঘাটি করতে দিয়েছিলেন সৌদি বাদশা।শুধু তাই নয় ,আমেরিকা হতে কিনা যুদ্ধ বিমান দিয়ে ইরাকে আক্রমন করেছিলেন সৌদি বাদশা।হত্যা করেছিলেন মোসলমান ইরাকীদের।যা বাদশা এড়াতে পারতেন।
বিদ্রোহ দমনের জন্য বিমান হামলা চালিয়ে হত্যা করেছেন নিরীহ মোসলমান হুতিদের মহিলা শিশুদের।
সৌদী বাদশার মোসলমান মারার গোলাবারুদে মারা যায় মোসলমানরা।ইসরাইল থাকে নিরাপদ।
আমেরিকার সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন সৌদি বাদশা।ঘর বাড়ী  সয়ায় সম্পদ হাড়িয়ে উদ্বাস্তু হয়েছেন লক্ষ লক্ষ মিডিলইষ্ট এর মোসলমান।সৌদি আরব তাদের আশ্রয় দেননি।দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছেন অসহায় মোসলমানদের। তারা সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে আশ্রয় নেবার জন্য জীবনপন করে মারা যাচ্ছেন ।অনেকের হয়েছে সলিল সমাধি ।যারা যেতে পারছেনে ইউরোপ/জার্মানীতে তাদের অনেকেই বেঁচে থাকার আকুতিতে হতে হচ্ছেন খ্রিষ্টান।
অর্থাত সৌদি বাদশা মোসলমানদের স্বার্থের ব্যাপারে আন্তরিক নন।
যদি কোন মোসলমান যদি বলেন পোপ সৌদি বাদশার চেয়ে বড় মোসলমান !
তবে সেটা অন্যায় কি হবে ?
কিন্তু কেন এই দূরবস্থা মোসলমানদের?
গরীব ভাইয়ের প্রতি দায়িত্ব অবহেলাই এর কারণ নয় কি ?
তবুও বাদশারা থাকবেন দাপটের সাথে ।
কারণ অর্থ বিত্ত ক্ষমতার দাপটের কাছে গরীব মানুষ খুব অসহায়।
অসহায় গরীব মোসলমান ধনী মোসলমানদের স্বার্থপরতার কারণে।
জান মাল নিজেদের জন্য সঞ্চিত করবেন পাহাড় সম ।সামান্য খরচ করতে খুব কৃপণতা ।খরচ করতে কৃপণতা ইসলামের জন্য।মোসলমানদের জন্য।
কারণ এর চেয়ে মিসকিন বলা সহজ যে !
আর ধনীরা ভুলে গেছে যে ,ইসলাম মানে মোসলমান্ ।
মোসলমান ছাড়া ইসলাম হয় কি করে ?
বৈষম্যনীতিতে মোসলমানদের মূল্যায়নে ইসলাম শব্দের অর্থ শান্তি  একথাটা কারারুদ্ধ হতে চলেছে কাগজের পাতায় ।
যদি বেঁচে থাকার তাগিদে জীবনকে হাতে নিয়ে মৃত্যুর সম্ভাবনাকে তুচ্ছ করে খ্রিষ্টান দেশে পাড়ি দিতে হয় ।
যদি ইসলামকে ত্যাগ করে খ্রিষ্ট ধর্ম গ্রহণ করতে হয় !
তাহলে ইসলাম শান্তির ধর্ম হবে কি করে ?

হয়তো এগুলো আমেরিকার পলিসি।
আর সে পলিসির পথ ধরে হাঁটছেন মুসলিম বিশ্ব!
এতে শান্তিকামীর পরিচয়ের বদলে সন্ত্রাসী বলে আখ্যায়িত হচ্ছেন মোসলমান।
 
হাজীদের নিহত হওয়ার ঘটনা পূঞ্জি !

১৯৮৭ সালঃ ইরানপন্থীদের বিক্ষোভ,সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে নিহত হয় ৪০০জন হাজী।

১৯৯০সালঃ সুড়ঙ্গ পথে যাওয়ার সময় পদদলিত হয়ে নিহত হয় ১৪২৬জন হাজী।

১৯৯৪সালঃ মিনায় পদদলিত হয়ে নিহত হয় ২৭০জন হাজী।

১৯৯৭সালঃ মিনায় হাজীদের থাকার তাবুতে আগুন লেগে নিহত হয় ৩৪২জন হাজী,আহত হয় প্রায় ১৫শ হাজী।

 ১৯৯৮সালঃ মিনায় পদদলিত হয়ে ১৮০জন হাজী নিহত।

২০০১সালঃ মিনায় পদদলিত হয়ে ৩০জন হাজী নিহত।

 ২০০৪সালঃ নিহত হয় ২৪৪জন হাজী।

২০০৬ সালেও মিনায় ঘটে যায় হতাহতের ঘটনা।

সর্বশেষ ২০১৫সালঃ এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা(১০৭+ ৭১৭)=৮২৪জন।


বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

কোরআন বলেছে গরুর মাংস স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর !?



গরু মূল্যবান সম্পদ। মানুষের পোষা জীবজন্তুর মধ্যে গরু সবচেয়ে উপকারী। দুধ, গোশত ও চামড়াজাত পণ্য ছাড়াও চাষাবাদ, গাড়িটানা ও অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে এখনও গরুর বিকল্প মেলা ভার।
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গুজরাট রাজ্য সরকার মুসলমানদের গরুর মাংস খেতে নিরুৎসাহিত করে বিলবোর্ড টাঙিয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজের রাজ্য গুজরাটে হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি ক্ষমতাসীন। এ রাজ্যের আহমেদাবাদে ওই বিলবোর্ড টাঙানো হয়েছে।
 সেখানে লেখা হয়েছে, গরুর মাংস খেলে রোগ হতে পারে। 
লেখা হয়েছে, গরুর মাংস খেলে রোগ হতে পারে
  
কোনো কোনো বিলবোর্ডে আবার দাবি করা হয়েছে-
‘কোরআন বলছে গরুর মাংস স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।’
 তবে মুসলিম নেতারা বলছেন, পবিত্র কোরআনে এ ধরনের কোনো আয়াত নেই।

অল ইন্ডিয়া মুসলিম বোর্ডের সদস্য মুফতি আহমেদ দেভালভি বলেন,
ভারতের কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো গরু জবাই নিষিদ্ধ করার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা করছে। তবে গত বছরের মে মাসে বিজেপি কেন্দ্রের ক্ষমতায় আসার পর থেকে গরু রক্ষা আন্দোলন আরো জোরদার হয়েছে। তখন থেকে এ পর্যন্ত ভারতের কয়েকটি রাজ্যে গরু জবাই বন্ধ এবং মাংস বিক্রি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
এ বিলবোর্ডের কঠোর সমালোচনা করে আহমেদাবাদের প্রধান মসজিদের ইমাম সাব্বির আলম বলেছেন, ‘এতে দুই সম্প্রদায়ের সম্প্রীতি নষ্ট হতে পারে।’
‘পবিত্র কোরআনে আমি এ ধরনের কোনো আয়াত পাইনি।’
পবিত্র কোরআন অনুসারে কোরবানীর ইতিহাস :
মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কে অনেকবার পরীক্ষা করেছেন। সকল পরীক্ষায় তিনি অত্যন্ত সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়েছেন। একরাতে তিনি স্বপ্নে দেখলেন, আল্লাহপাক তাকে ইঙ্গিত করেছেন প্রাণধিক পুত্র হযরত ইসমাঈল (আঃ) কে কোরবানী করতে। বৃদ্ধ বয়সের একমাত্র সন্তান হযরত ইসমাঈল (আঃ)-এর অপেক্ষা অধিকতর প্রিয় আর কি হতে পারে। তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সিদ্ধান্তে পৌঁছলেন যে, হযরত ইসমাঈল (আঃ) কে কোরবানী করবেন। তখন তিনি হযরত ইসমাঈল (আঃ) বললেন, যা পবিত্র কোরআনে এভাবে বর্ণিত হয়েছেঃ “হে বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, তোমাকে আমি জবাই করছি। এখন তোমার অভিমত কি?” সে (হযরত ইসমাঈল (আঃ)) বলল, “হে পিতা! আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তাই করুন। আল্লাহ চাহেতো আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন।” (সূরা সফফাত আয়াত-১০২)। ছেলের সাহসিকতাপূর্ণ জবাব পেয়ে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) অত্যন্ত খুশি হলেন। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ছেলের গলায় ছুরি চালান। তখন হযরত জিব্রাইল (আঃ) আল্লাহর নির্দেশে বেহেশত হতে একটা দুম্বা নিয়ে রওয়ানা হলেন। তার মনে সংশয় ছিল পৃথিবীতে পদার্পণের পূর্বেই হযরত ইব্রাহীম (আঃ) যবেহ কাজ সম্পূর্ণ করে ফেলবেন। তাই জিবরাইল (আঃ) আকাশ হতে উচ্চৈস্বরে ধ্বনি দিতে থাকেন “আল্লাহু আকবার”। আওয়াজ শুনে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলে উঠলেন, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার”। পিতার মুখে তাওহীদের বাণী শুনতে পেয়ে হযরত ইসমাঈল (আঃ) বলে উঠলেন আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিলহামদ”। আল্লাহর প্রিয় দুই নবী এবং হযরত জিবরাইল (আঃ)-এর কালামগুলো আল্লাহর দরবারে এতই পছন্দনীয় হলো যে, কিয়ামত পর্যন্ত এই কথাগুলো ৯ই জিলহজ্ব ফজর থেকে আসর পর্যন্ত বিশেষ করে ঈদুল আযহার দিনে বিশ্ব মুসলিমের কণ্ঠে উচ্চারিত হতে থাকবে।

আল্লাহপাকের অসীম কুদরতে হযরত ইসমাঈল (আঃ)-এর পরিবর্তে কোরবানী হয়ে গেল একটি বেহেস্তী দুম্বা। কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন হযরত ইব্রাহীম (আঃ)। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পবিত্র কালামে ঘোষণা করেনঃ “তখন আমি তাকে ডেকে বললাম, হে ইব্রাহীম! তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ। আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। নিশ্চয় এটা একটা সুস্পষ্ট পরীক্ষা। আমি তার (ইসমাঈল (আঃ)-এর পরিবর্তে দিলাম জবেহ করার জন্য এক মহান জন্তু।” (সূরা সাফফাত আয়াত-১০৪-১০৭)। বর্ণিত আছে যে, হযরত ইব্রাহীম (আঃ) উপরোক্ত গায়েবী আওয়াজ শুনে হযরত জিবরাইল (আঃ)কে একটি বেহেস্তী দুম্বাসহ দেখতে পান। এ জান্নাতী দুম্বা হযরত ইব্রাহীম (আঃ) কে দেয়া হলে তিনি আল্লাহর নির্দেশে পুত্রের পরিবর্তে সেটি কোরবানী করলেন। আর তখন থেকেই শুরু হলো কোরবানীর মহান বিস্ময়কর ইতিহাস। যা অনন্তকাল ধরে সুন্নতে ইব্রাহীম হিসেবে বিশ্বের সকল মুসলমানের কাছে আজও স্মরণীয় হয়ে আছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে।
বনি ইসরাইল হজরত মুসা (আ.) এর উম্মত। তারাই আল্লাহর কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি করুণা পেয়েছেন। এমনকি তাদের জন্য আল্লাহ বেহেশত থেকে খাবারও পাঠিয়েছেন। তাদের হেদায়েতের জন্য সবচেয়ে বেশি নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন। কিন্তু মুষ্ঠিমেয় লোক ছাড়া বেশিরভাগই অবিশ্বাসী ছিল। সেই অবাধ্য বনি ইসরাইলদেরই যখন আল্লাহ আদেশ করলেন একটি গরু কোরবানি করতে, তখন মুখে ‘না’ শব্দটি না বললেও অযথা নানা প্রশ্ন ছুঁড়তে শুরু করে যাতে কোরবানি না করতে হয়। কেমন গরু, রঙ কী, বয়স কত? ইত্যাদি সব প্রশ্ন। মহান আল্লাহও তাদের প্রশ্নের বিপরীতে বলেছেন, গরু অবশ্যই মধ্যবয়সী ষাঁড় হতে হবে। যে গরু কৃষিকাজে ব্যবহৃত হয়নি, রোগমুক্ত ও নিখুঁত। বুড়ো বা বাছুর চলবে না। গরুর রঙ হবে গাঢ় পীতবর্ণের, যা সবার কাছে পছন্দনীয়। সূরা বাকারার ৬৭ থেকে ৭৩ নম্বর আয়াতে এর বিস্তর বিবরণ রয়েছে।
কোরবানির পশু হিসেবে গরু : পবিত্র কোরআন ও হাদিসে গরুকে উটের সঙ্গে তুলনা করে কোরবানির উট ও গরুতে সাত শরিক হওয়ার কথা প্রমাণিত রয়েছে। জাবের (রা.) বলেন, ‘আমরা হজের ইহরাম বেঁধে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সঙ্গে বের হলাম। তিনি আমাদের আদেশ করলেন যেন আমরা প্রতিটি উট ও গরুতে সাতজন করে শরিক হয়ে কোরবানি করি।’ (মুসলিম)। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) তার স্ত্রীদের পক্ষ থেকে গরু কোরবানি করেছেন।’ (বোখারি, মুসলিম)। 

বাংলাদেশে কোরবানির পশু হিসেবে গরুই সহজ ও সুলভ। ষাঁড়, বলদ, গাভি সবকিছুই কোরবানির উপযুক্ত। দুই বছর বয়স হলেই গরু কোরবানি করা যায়। ষাঁড় অত্যন্ত দামি পশু। বিপুল দামে  কৃষক তা বিক্রি করে এবং ক্রেতারা ক্রয় করে তা আল্লাহর ওয়াস্তে কোরবানি করেন। 

 সনাতন শাস্র সামবেদের একটি উদৃতি :
সামবেদে মুহাম্মদের (দঃ) পরিচয় বর্ণনা করে বলা হয়েছে - যার নামের প্রথম অক্ষর 'ম' এবং শেষ অক্ষর 'দ' হবে এবং গো মাংস খাওয়ার আদেশ দিবেন, সেই দেবতাই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় দেবতা।
"মদৌ বর্তিতা দেবা দকারান্তেপ্রকৃত্তিতা।
বৃষানাং বক্ষয়েত্‍ সদা মেদাশাস্ত্রেচস্মৃতা \\"


অর্থঃ  "যে দেবের নামের প্রথম অক্ষর"ম" ও শেষ অক্ষর "দ" এবং

যিনি বৃষমাংস (গরুর মাংস) ভক্ষণ সর্বকালের জন্য পুনঃ বৈধ করিবেন,
তিনিই হইবেন বেদানুযায়ী ঋষি।"
গরুর মাংসের বিষয়ে বিজ্ঞান :
আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ৯টি পুষ্টি উপাদান আছে গরুর মাংসে।এগুলো হলো প্রোটিন, জিঙ্ক, ভিটামিন বি১২, সেলেনিয়াম,ফসফরাস, নায়াসিন, ভিটামিন বি৬, আয়রন এবং রিবোফ্লেভিন। প্রোটিন শরীরের পেশী গঠনে ভূমিকা রাখে, জিঙ্ক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ফসফরাস দাত ও হাড়ের শক্তি বাড়ায়, আয়রন শরীরের পেষি গুলোতে অক্সিজেন প্রবাহে সহায়ত করে এবং ভিটামিন বি১২ খাদ্য থেকে শক্তি যোগান দেয়।
বর্ধনশীল বাচ্চা বা টিনএজার দের সমর্থ ও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে গরুর মাংসের তুলনা নেই।তবে বয়স্কদের যারা কায়িক পরিশ্রম করেন না,যাদের ডায়বেটিশ ও হার্টের সমস্যা আছে তারা ডাক্তারের পরামর্শ মতে খেতে পারেন।অর্থাত বয়স্কদের খেতে হবে বুঝে শুনে ।


বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

মৃত্যুর পর কি হবে !

যার জন্ম আছে তার মৃত্যু হওয়া স্বাভাবিক আমাদের সকলের একদিন না একদিন মৃত্যু হবেই মৃত্যু নিয়ে যারা চিন্তা করেন তারা জীবনে ভুল কাজ কম করেন আর যারা মৃত্যুকে ভয় পায় না, তারা কোন কিছু করতে ভয় পান নাআমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় রহস্য হল মৃত্যুর পরে আমাদের কি হবে সে সম্পর্কে আমরা সঠিকভাবে জানিনা
  একটি নতুন জরিপ অনুসারে দেখা যায় ৬৮ শতাংশ লোক মৃত্যুর পরে কি হবে তা নিয়ে বেশ চিন্তিত থাকেন তারা নিজেদের সবসময় বলে থাকেন, জীবনে তারা এমন কিছু করেন নি যে, সে জন্য তারা জান্নাতে যেতে পারবেন তারা মৃত্যুর পর জাহান্নামে যাবে বা অনেক কষ্টে থাকবে এরকম চিন্তা থাকে তাদের মাঝেযখন তাদের প্রশ্ন করা হয় আপনারা মৃত্যুর পর কোথায় থাকবেন বলে মনে হয়তখন ,৭৭০ জনের মাঝে ১০ শতাংশ লোক বলেন তাদের হয়ত জাহান্নামে যেতে হবেতারা বিষয় নিয়ে অনেক গবেষণা করে দেখতে পান, প্রতি দশ জনের মাঝে একজন মৃত্যুর পরের সময় নিয়ে অনেক বেশি চিন্তা করেন কিন্তু আপনি যদি ছেলে হয়ে থাকেন তাহলে এই সংখ্যা প্রতি সাত জনের মাঝে একজনমনে ভয় থাকার কারণে ২৭ শতাংশ মানুষ সারাজীবন বেঁচে থাকতে চায় অর্থাৎ তারা কখনও মৃত্যুর স্বাদ নিতে চায় না তবে ৯০ বছর হয়ে যাবার পর অনেকেই পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে চায় নামৃত্যুই জীবনের শেষ নয় সেখান থেকে আরেকটি নতুন অধ্যায়ের শুরু তাই আগামী অধ্যায়ের জন্য এই অধ্যায় ভালভাবে সম্পন্ন করুন

সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

Pope Francis 'biggest Muslim Saudi King'



The refugee crisis in the Persian Gulf countries has sparked harsh criticism against the inactive role. In particular, countries such as Germany and Austria are treated humanely pressure on Arab countries.
The 'Christian' Europe one after another of the administration and the people of Syria, "Muslim" refugees are warmly welcome. The Christians of Europe are calling for the refugees, even the Pope himself.

 he "Muslim" refugees to the Gulf countries alone, their situation is the ultimate boredom. As a result of the news media and social media have become vocal.
#arabconscience has been launched by a hashtag.
Genara team that shares a report questioning, the Gulf countries, where are you?
Arab countries in the Gulf region, the role of negative criticism, joined Mark Mac tune.
Refugee crisis on countries in the Gulf, but the government failed to do so many people feel ashamed - James has shared a report grid.
Khalid Latif think, the Pope is due to her recent role in Saudi Arabia's king more than the 'Muslims'.
Wrote one Twitter user dissatisfaction with disgorge, Saudi Arabia and the Gulf countries in the Muslim leaders, whom Islam does not have the slightest effect.
Dinuksi kirtisinhe wrote, "Your religion has taught you this? Muslim brother will not need help? "
Sabrina In the case of refugees, Pakistan, Egypt, Turkey and Lebanon, referring to the Gulf countries and the role of the religious duty of Muslims questioned.
In this context, reminds Karen sugar, Saudi Arabia 100 million dollars to buy weapons for the time being busy with America.