
মানুষের জন্য যা কল্যানকর তাহাই জগত পালকের বানী ও বিশ্বাস
যদি কোন বিশ্বাস বা বানীতে জগত পালকের রহমত ও বরকত না থাকে।
যদি সে বিশ্বাস বা বানী প্রচারে কারো দম্ভ প্রকাশ পায় ।
পার্থিব সুবিধা লাভের সুযোগ সৃষ্টি হয় বা অধিকার লাভের কারণ হয়।
তবে সে বাণী বা বিশ্বাস মানুষদের বিভাজিত করে।
সে বানী বিশ্বাসীরা দেশের সমস্ত সুয়োগ সুবিধা লাভ করে,
অন্যেরা থাকে বঞ্চিত ।তবে এই বিশ্বাস বা বানী ন্যায়ত অন্যায় ও পাপেরও ।
যা মানুষকে শুধু নিজ স্বার্থে অমানবিক আচরণ ধারণের কারণ হয় ।
একারণে সুবিদাভোগীরা সে বিশ্বাস বা বানীকে বেঁচে থাকার মূল উপলক্ষ্য বলে মনে প্রাণে বিশ্বাস করে।
ফলশ্রুতিতে ঐ সমস্ত ব্যক্তিদের লাভ ও সুবিধা প্রাপ্তির কারণে তাদের মনে অন্ধ বিশ্বাস জন্ম লাভ করে ।
এতে স্বাভাবিক জনকল্যাণ মূলক জ্ঞান বিকশিত হবার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়।
জনকল্যাণমূলক বিষয়গুলো লোক দেখানো অনুষ্ঠানে পরিণত হয়।
কথা ও কাজে কোন মিল পাওয়া যায় না।
ক্ষমতা ভোগ,দম্ভ ও সুবিধা লাভ করাই একমাত্র উদ্দেশ্য হয়ে যায় ।
মুক্ত মত ও মুক্ত চিন্তা শয্য করা হয় না।
নিজের মতের অনুসারী না হলে মানুষদের প্রতিপক্ষ ভাবা হয়,শত্রু সম জ্ঞান করা হয় , ভাল ও মঙ্গলের কথাও তখন পছন্দ হয় না।
বরং রাষ্ট্রের সুবিধা ভোগী গোষ্টির সৃষ্টি হয এদের কর্তৃক চাপিযে দেয়া অনিয়মে বঞ্চিত মানুষগণ অবহেলার কারণ হয়।এক্ষেত্রে কেউ কেউ প্রকিবাদী হলে তাদেরকে শত্রু হিসাবে গণ্য করা হয়। ।
সমাজে সৃষ্টি করা হয় বিদ্বেষ বৈষম্য।
এই অবস্থায় বৈষম্যের শিকার হওয়া মানুষদের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য জ্ঞান করে সুবিধা লাভ কারীরা।
বৈষম্যের শিকার হওয়া মানুষদের এই পরণতির জন্য ক্ষমতা ও সুবিধা লাভকারী কিছু মানুষ দায়ী হলেও,এই অসম পরণতির জন্য বৈষম্য শিকার হওয়া জনগণকেই দায়ী করেন দাম্ভিক সুবিধা ভোগীরা।
যা সুবিধাভোগীদের নিজেকে ছাড়া অপরকে অপমাণিত করার মানষিকতা তৈরী করে অন্ধ বিশ্বাসকেই প্রকট ভাবে প্রতিষ্ঠিত করে।রাষ্ট্রে অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়,শাসকরা জননিপীড়ণকারী হিসাবে আবর্তীর্ন হয়।সকল কিছু টাকা ও ক্ষমতার দিয়ে পরিমাপ করা হয়।মানবতা পদদলিত হয়।মূলবোধ হাড়িয়ে ফেলে। শান্তি ও অগ্রগতি বাঁধাগ্রস্খ হয় রাষ্ট্রের।রাষ্ট্র অভিশাপের জালে আবদ্ধ হয়।
অভিশপ্ত রাষ্ট্রের সুবিধা ভোগীরা দেশকে ভালবাসার মায়া কান্না করে।নিজেদের সুবিধার জন্য রাষ্ট্রের সম্পদ পাচার করে বিদেশে গড়ে তোলে নিজেদের সুবিধার স্বর্গ।দেশের মানুষ গরীব থাকে বরাবর।যার ফলশ্রুতিতে রাষ্ট্র হয়ে যায় চীরঅভিশপ্ত। সমাজের সাধারণ মানুষ হয় বৈষম্যের শিকার ও বিভক্ত হয় মানুষ।তাদের এই বিশ্বাসে জগত পালকের কোন রহমত ও বরকত থাকে না।
অতএব, যে বিশ্বাস বা বানীতে জগৎ পালকের বরকত ও রহমত থাকে,
তা অবলম্বন ও বাস্তবায়নে সমাজের মানুষকে একত্রিত করে ।সমাজে বিরাজ করে শান্তি ও অগ্রগতি।
সে সমাজে আবশ্যিক ভাবে উন্নতি লাভ করে দ্রুত ।
যার জন্য ৪৫ বছর সময়ের প্রয়োজন হয় না।
কারণ, মানুষের জন্য যা কল্যানকর তাহাই জগত পালকের বানী ও বিশ্বাস।
গণতন্ত্রের প্রতি বিশ্বাসী হলে দেশের মানুষের প্রতি দায়িত্ব থাকলে ৫ বছরই যথেষ্ঠ সময় হয়।অধিক সময়কাল ক্ষমতায় থাকার প্রয়োজন হয় না।
অগণতান্ত্রিক ভাবে দীর্ঘকাল ক্ষমতায় আকড়ে থাকতে হয় না ।
উদাহরণ-১।একদা বাংলাদেশের চেয়ে অনুন্নত মালশিয়া আজ বাংলাদেশের জন্য মডেল রাষ্ট্র।
২।অতীতে সৌদী আরবকে সাহায্য করতো বাংলাদেশ ।আজ তারা বলেন মিসকিন।
ছবি:গুলিস্তান,ঢাকা ।
ছবি কাহিনী :৩ জুন ২০১৬ বাসে করে গুলিস্তান হতে সদরঘাট যাবার সময় এই ছবিটি যখন তুলছিলাম তখন পাশে বসা সহযাত্রী সতর্ক করে বলেছিলেন ক্যামেরাটি যেন জানালার কাছে না নেই ।কারণ আমি জানি ছিনতাইকারী আমার হাত হতে নিমিষের মধ্যে ক্যামেরাটি নিয়ে ভোঁ দৌড় দিবে ।নেয়ার সময় হাত ভেঙ্গে যাবে নাকি মচকে যাবে সেটা ছিনতাইকারীর ধাতব্যের বিষয় থাকবে না।অর্থাৎ ক্যামেরার সাথে হাতটাও আক্রান্ত হতে পারে। সহযাত্রীর সতর্ক বানী শুনে ক্যামেরা হাড়াবার বা হাত ভেঙ্গে যাবার বিষয়টি চিন্তা করছিলাম না । চিন্তা করছিলাম এই কিশোর বয়সী ছেলেরা কেন ছিনতাইকারী হয় ? রাষ্ট্রীয় তথা সামাজিক বৈষম্য কি এর জন্য দায়ী নয় ? রাষ্ট্রের তথা সমাজের দায়িত্ব অবহেলা কি এর জন্য দয়িী নয় ? অল্প বয়সী কিশোর কেন মাদকাসক্ত হবে? এই মাদকের অর্থ সংগ্রহ করার জন্য এরা ছিনতাইকারী রূপে আবির্ভূত হয়।কয়েক বছর আগে খবরে পড়েছিলাম এক ছিনতাইকারীকে ধাওয়া করতে গিয়ে এক পুলিশ ছুরিকাঘাতে নিহত হয়। কেন এমন হয় ? রাষ্ট্রের সম্ভাবনাময় কিশোররা কেন ছিনতাইকারী হবে ? কেন ছিনতাইকারী হবার পরিবেশ রোধ করা যায় না? কেন এমন পরিবেশ সৃষ্টি করা যায় না, যেখানে ছিনতাইকারী হবার সুয়োগ নেই।
বৈষম্যহীন সুন্দর শান্তির সমাজের জন্য আমাদের আর কতোকাল অপেক্ষা করতে হবে?
বৈষম্য সমাজের শান্তি নষ্ট করে । মানুষের অপরাধ প্রবণতা বাড়ায়।
আমরা কি এমন বিশ্বাস করতে পারি না ? এমন বানী প্রচার করতে পারি না ? এমন কাজ করতে পারি না ?
যাতে সমাজে বৈষম্য থাকবে না ! সমাজ হবে শান্তির ও কল্যাণকর!