শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

পবিত্র হজ পালন নিরাপদ নয় কেন হাজীদের ?

মোসলমানরা পবিত্র হজ পালন করবেন।
আল্লাহর নিকট হতে অশেষ রহমত প্রাপ্ত হবেন।
 নিরাপদে দেশে স্বজনদের মাঝে ফিরে আসবেন ।
হজের পবিত্র সুফল যারা হজ করতে সক্ষম নন তাঁদের কাছে পৌঁছাবেন।
 জানাবেন শুনাবেন এবং সাধারণ মোসলমানরা হাজী ব্যক্তির সংস্পর্শে এসে আল্লাহর নিয়ামতের অংশীদার হবেন ।
হাজীদের নির্মল জীবনচরিতে মোসলমানদের জীবন হবে শান্তিময় ।সমাজ হবে শান্তিময় ।
 এটিই আমাদের কাম্য এবং স্বাভাবিক ঘটনা ও  আল্লাহর অশেষ রহমত বলে মনে করি ।

কিন্তু পবিত্র হজ্ব করতে গিয়ে যদি দুর্ঘটনায় হাজী মারা যান ।
তবে নিশ্চই সেটা আল্লাহর রহমত হতে পারে না।যদিও হায়াত মউত আল্লাহর কাছে।

কিন্তু ক্রেন দুর্ঘটনা ও মিনার দুর্ঘটনা সৌদি রাষ্ট্রের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের দায়িত্বে অবহেলার জন্যেই ঘটেছে ।
ভারতে মন্দিরে পদদলিত হয়ে মানুষ মারা যায় ।
এখন মারা গেল পবিত্র মক্কায় ।
এর জবাবে কি বলবেন সৌদি বাদশা ?
হাজীদের মৃত্যুতে কি  তাঁর দায়িত্বে কোন অবহেলা নেই ?

সৌদিতে ক্রেন দুর্ঘটনায় নিহতের সংখা  ১০৭

মুসলমানদের অন্যতম পবিত্র স্থান মক্কার মসজিদুল হারামে  ক্রেন দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১০৭ জন হাজী।
 এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আড়াইশ’য়ের মত হাজী।
আহতদের মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়ার নাগরিক রয়েছেন।
ক্রেন ভেঙে পড়ার ঘটনায় অন্তত ৪০ জন বাংলাদেশী আহত হয়েছেন ।
দুর্ঘটনায় পাকিস্তানের ১৪, ভারতের নয় এবং মালয়েশিয়ার ছয় জন আহত হয়েছেন।

লাদেনের ক্রেন :
পত্রিকার খবরে জানা গিয়েছে ক্রেনটি ছিল লাদেনের বা লাদেন পরিবারের ।
এ খবর প্রচার করে সৌদি কর্তৃপক্ষ কি এটা বুঝাতে চাইছেন যে, ক্রেন ভেংগে যাবার জন্য মৃত লাদেন  দায়ী ।
অথবা লাদেন পরিবার দায়ী!?
সৌদি বাদশা কি আমেরিকা হতে কিনা যুদ্ধ বিমান দিয়ে লাদেনের কবরে বোমা বর্ষন করবেন ?
লাদেনের কবরে বোমা বর্ষনের কারণে খুশী হয়ে যাবেন মৃত হাজীদের পরিবার !?
কিন্তু লাদেনের কবরের ঠিকানা কোথায় ?তাঁর যে সলিল সমাধি করা হয়েছে।ঠিকানা অজানা!
ঠিকানা ভুল করে সৌদি বাদশার বোমারু বিমান মোসলমানদের হত্যা করবে নাতো?
তার নিশ্চয়তা কোথায় ?

মিনায় পদদলিত হয়ে নিহত কমপক্ষে ৭১৭ হজযাত্রী

আল্লাহর দরবারে আর্তচিৎকারে নিজেকে সঁপে দিয়েছিলেন হাজিরা এই বলে,
হাজির হে আল্লাহ হাজির, আপনার মহান দরবারে হাজির।
 আপনার কোন শরিক নেই।
সব প্রশংসা, নিয়ামত এবং সব রাজত্ব আপনারই।
 সত্যি এমনভাবে আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে পবিত্র মক্কার মিনায় পদদলিত হয়ে নিহত হলেন কমপক্ষে ৭১৭ হাজী।
সাদা কাপড়ে ঢাকা শুধু লাশ আর লাশ।
 বিক্ষিপ্ত অবস্থায় পড়ে আছে এসব হাজীর লাশ।
 চলাচলে অক্ষম হাজীরা মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন হুইলচেয়ারে। পাশেই পড়ে আছে পানির বোতল।
দু’টুকরো সাদা কাপড়ে নিথর পড়ে আছেন আল্লাহর মেহমানরা।
অবর্ণনীয় সে দৃশ্য।
হৃদয় বিদারক এসব দৃশ্য চোখে দেখেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠছেন অন্য হাজী ও উদ্ধারকর্মীরা।

মিনায় দুর্ঘটনার জন্য দায়ি সৌদি যুবরাজের গাড়িবহর!

সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের পূত্র প্রিন্স সালমান আল সৌদের গাড়ি বহরের কারণেই
 মিনায় পদদলিত হয়ে ৭১৯ জন হাজি নিহত হয়েছেন বলে একাধিক সংবাদ মাধ্যম দাবি করেছে।
লেবাননের আরবি ভাষার দৈনিক আল দিয়ার এক প্রতিবেদনে জানায়,
হজের তৃতীয় দিনে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটার পেছনে সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ সালমান আল সৌদ
 বিশাল গাড়ি বহর প্রধান ভূমিকা পালন করেছে।
  মিনার পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ উপত্যকায় সৌদি বাদশাহ যাচ্ছিলেন বিশাল হজ জমায়েতে যোগ দিতে।
 তার সঙ্গে ছিল ২০০ সেনাবাহিনী ও ১৫০ পুলিশ সদস্য।
প্রতিবেদনে বলা হয় সৌদি যুবরাজের উপস্থিতি মানুষের চলাচলের মধ্যে বিঘ্ন ঘটায় এবং হঠাৎ করে দিক পরিবর্তন করায় সেটা থেকে হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয় যা থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দৈনিকটি আরো জানায়, ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুতই যুবরাজ ও তার বহর স্থান ত্যাগ করে এবং তার এই জায়গায় যাওয়ার ঘটনা গণমাধ্যমে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে।
দূর্ঘটনার জন্য সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ সালমান আল সৌদের গাড়ি বহরকে দায়ি করে প্রায় একই রকম সংবাদ প্রকাশ করেছে দুবাই থেকে প্রকাশিত পত্রিকা আল-জিদ্দাজ। এছাড়া ভারতে জি-নিউজের এক প্রতিবেদনেও একই দাবি করা হয়েছে।
অবশ্য সৌদি কর্তৃপক্ষ এই প্রতিবেদনকে অসত্য উল্লেখ করে দায়টা হজ করতে আসা মানুষদের উপরেই চাপিয়েছেন।
এ বিষয়ে সৌদি স্বাস্থমন্ত্রী খালেদ আল ফালিহ বলেন, হজযাত্রীরা যদি কর্তৃপক্ষের দেওয়া সময় মেনে চলতেন তাহলে এই দুর্ঘটনা ঘটতো না।

মোসলমানদের রক্ষায় ব্যর্থ সৌদি বাদশা :
ইরাক যুদ্ধে আমেরিকাকে সামরিক ঘাটি,বিমান ঘাটি করতে দিয়েছিলেন সৌদি বাদশা।শুধু তাই নয় ,আমেরিকা হতে কিনা যুদ্ধ বিমান দিয়ে ইরাকে আক্রমন করেছিলেন সৌদি বাদশা।হত্যা করেছিলেন মোসলমান ইরাকীদের।যা বাদশা এড়াতে পারতেন।
বিদ্রোহ দমনের জন্য বিমান হামলা চালিয়ে হত্যা করেছেন নিরীহ মোসলমান হুতিদের মহিলা শিশুদের।
সৌদী বাদশার মোসলমান মারার গোলাবারুদে মারা যায় মোসলমানরা।ইসরাইল থাকে নিরাপদ।
আমেরিকার সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন সৌদি বাদশা।ঘর বাড়ী  সয়ায় সম্পদ হাড়িয়ে উদ্বাস্তু হয়েছেন লক্ষ লক্ষ মিডিলইষ্ট এর মোসলমান।সৌদি আরব তাদের আশ্রয় দেননি।দূর দূর করে তাড়িয়ে দিয়েছেন অসহায় মোসলমানদের। তারা সাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে আশ্রয় নেবার জন্য জীবনপন করে মারা যাচ্ছেন ।অনেকের হয়েছে সলিল সমাধি ।যারা যেতে পারছেনে ইউরোপ/জার্মানীতে তাদের অনেকেই বেঁচে থাকার আকুতিতে হতে হচ্ছেন খ্রিষ্টান।
অর্থাত সৌদি বাদশা মোসলমানদের স্বার্থের ব্যাপারে আন্তরিক নন।
যদি কোন মোসলমান যদি বলেন পোপ সৌদি বাদশার চেয়ে বড় মোসলমান !
তবে সেটা অন্যায় কি হবে ?
কিন্তু কেন এই দূরবস্থা মোসলমানদের?
গরীব ভাইয়ের প্রতি দায়িত্ব অবহেলাই এর কারণ নয় কি ?
তবুও বাদশারা থাকবেন দাপটের সাথে ।
কারণ অর্থ বিত্ত ক্ষমতার দাপটের কাছে গরীব মানুষ খুব অসহায়।
অসহায় গরীব মোসলমান ধনী মোসলমানদের স্বার্থপরতার কারণে।
জান মাল নিজেদের জন্য সঞ্চিত করবেন পাহাড় সম ।সামান্য খরচ করতে খুব কৃপণতা ।খরচ করতে কৃপণতা ইসলামের জন্য।মোসলমানদের জন্য।
কারণ এর চেয়ে মিসকিন বলা সহজ যে !
আর ধনীরা ভুলে গেছে যে ,ইসলাম মানে মোসলমান্ ।
মোসলমান ছাড়া ইসলাম হয় কি করে ?
বৈষম্যনীতিতে মোসলমানদের মূল্যায়নে ইসলাম শব্দের অর্থ শান্তি  একথাটা কারারুদ্ধ হতে চলেছে কাগজের পাতায় ।
যদি বেঁচে থাকার তাগিদে জীবনকে হাতে নিয়ে মৃত্যুর সম্ভাবনাকে তুচ্ছ করে খ্রিষ্টান দেশে পাড়ি দিতে হয় ।
যদি ইসলামকে ত্যাগ করে খ্রিষ্ট ধর্ম গ্রহণ করতে হয় !
তাহলে ইসলাম শান্তির ধর্ম হবে কি করে ?

হয়তো এগুলো আমেরিকার পলিসি।
আর সে পলিসির পথ ধরে হাঁটছেন মুসলিম বিশ্ব!
এতে শান্তিকামীর পরিচয়ের বদলে সন্ত্রাসী বলে আখ্যায়িত হচ্ছেন মোসলমান।
 
হাজীদের নিহত হওয়ার ঘটনা পূঞ্জি !

১৯৮৭ সালঃ ইরানপন্থীদের বিক্ষোভ,সৌদি নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে নিহত হয় ৪০০জন হাজী।

১৯৯০সালঃ সুড়ঙ্গ পথে যাওয়ার সময় পদদলিত হয়ে নিহত হয় ১৪২৬জন হাজী।

১৯৯৪সালঃ মিনায় পদদলিত হয়ে নিহত হয় ২৭০জন হাজী।

১৯৯৭সালঃ মিনায় হাজীদের থাকার তাবুতে আগুন লেগে নিহত হয় ৩৪২জন হাজী,আহত হয় প্রায় ১৫শ হাজী।

 ১৯৯৮সালঃ মিনায় পদদলিত হয়ে ১৮০জন হাজী নিহত।

২০০১সালঃ মিনায় পদদলিত হয়ে ৩০জন হাজী নিহত।

 ২০০৪সালঃ নিহত হয় ২৪৪জন হাজী।

২০০৬ সালেও মিনায় ঘটে যায় হতাহতের ঘটনা।

সর্বশেষ ২০১৫সালঃ এখন পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা(১০৭+ ৭১৭)=৮২৪জন।


রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

দরবেশ তুমি কহ কহ আজ কোন ভালবাসা দিয়ে


শাহ জালালের কবরে

পল্লী কবি জসীম উদ্দীন

দরবেশতুমি কহ কহ আজ কোন ভালবাসা দিয়ে
এই বাংলার বুকে এনেছিলে মরু আরবেরে নিয়ে।
কোন সুরে তুমি পড়িতে কোরান তাঁহার মধুর বুলে
ভুলি ব্যবধান সকল মানুষ চরণে পড়িল ঢুলে।
হাজার যুগের মিথ্যা আর অন্ধ ধর্মনীতি
পদাঘাতে নর ছুটিয়া আসিল শুনি তব কোন গীতি।
জড় পুতুলের পুজা করে যারা আছিল পুতুল হয়ে
কেমন করিয়া গড়িলে এ জাত তুমি তাহাদেরে ল’য়ে।
জায়নামাজের পাটীখাটি ছিল ক্ষুদ্র সে পরিসর
অর্ধেক বাংলা বসাইলে তুমি কোন বলে তারি’পর?
সদুর আরব মরু পারাপার খর্জ্জুর ছায়াতলে,
উঠেছিল একফালি চাঁদ  নাহিয়া জোছনা জলে।
ডালিম শাখায় বসিয়া দোয়েল গাহিত তাহার গান
খোরমার পাতায় দোলিত বাতাসে শুনি সে’ মধুর তান।
সে চাঁদেরে তুমি বেঁধে দিয়ে গেলে বাংলার আসমানে
আজো সে আঁধারে ছড়ায় জোছনা সবখানে সব প্রাণে ।
দরবেশ তুমি কহ কহ আজ কোন বানী শিখেছিলে
এই বাংলার শ্যামল বুকেতে আরবেরে এনে দিলে।
কবে তুমি সেই প্রথম ফজরে দাঁড়ায়ে মিনার পরে
নিখিল নরেরে ডাক দিয়েছিলে আজানের মধুস্বরে।
আজো সেই সূর ঘুরিয়া ঘুরিয়া মানুষের বুকে বুকে
খোদা তা’লার আরশের পরে মর্ছি পড়িছে সুখে।
বহু পথ ঘুরে আসিয়াছি আমি তোমার কবর পরে
শিখিতে এসেছি কোন ডাকে তুমি ডাকিতে নিখিল নরে ।


বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

কোরআন বলেছে গরুর মাংস স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর !?



গরু মূল্যবান সম্পদ। মানুষের পোষা জীবজন্তুর মধ্যে গরু সবচেয়ে উপকারী। দুধ, গোশত ও চামড়াজাত পণ্য ছাড়াও চাষাবাদ, গাড়িটানা ও অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে এখনও গরুর বিকল্প মেলা ভার।
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে গুজরাট রাজ্য সরকার মুসলমানদের গরুর মাংস খেতে নিরুৎসাহিত করে বিলবোর্ড টাঙিয়েছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজের রাজ্য গুজরাটে হিন্দু জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি ক্ষমতাসীন। এ রাজ্যের আহমেদাবাদে ওই বিলবোর্ড টাঙানো হয়েছে।
 সেখানে লেখা হয়েছে, গরুর মাংস খেলে রোগ হতে পারে। 
লেখা হয়েছে, গরুর মাংস খেলে রোগ হতে পারে
  
কোনো কোনো বিলবোর্ডে আবার দাবি করা হয়েছে-
‘কোরআন বলছে গরুর মাংস স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।’
 তবে মুসলিম নেতারা বলছেন, পবিত্র কোরআনে এ ধরনের কোনো আয়াত নেই।

অল ইন্ডিয়া মুসলিম বোর্ডের সদস্য মুফতি আহমেদ দেভালভি বলেন,
ভারতের কট্টরপন্থী হিন্দুত্ববাদী সংগঠনগুলো গরু জবাই নিষিদ্ধ করার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই চেষ্টা করছে। তবে গত বছরের মে মাসে বিজেপি কেন্দ্রের ক্ষমতায় আসার পর থেকে গরু রক্ষা আন্দোলন আরো জোরদার হয়েছে। তখন থেকে এ পর্যন্ত ভারতের কয়েকটি রাজ্যে গরু জবাই বন্ধ এবং মাংস বিক্রি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
এ বিলবোর্ডের কঠোর সমালোচনা করে আহমেদাবাদের প্রধান মসজিদের ইমাম সাব্বির আলম বলেছেন, ‘এতে দুই সম্প্রদায়ের সম্প্রীতি নষ্ট হতে পারে।’
‘পবিত্র কোরআনে আমি এ ধরনের কোনো আয়াত পাইনি।’
পবিত্র কোরআন অনুসারে কোরবানীর ইতিহাস :
মুসলিম জাতির পিতা হযরত ইব্রাহিম (আঃ) কে অনেকবার পরীক্ষা করেছেন। সকল পরীক্ষায় তিনি অত্যন্ত সফলতার সাথে উত্তীর্ণ হয়েছেন। একরাতে তিনি স্বপ্নে দেখলেন, আল্লাহপাক তাকে ইঙ্গিত করেছেন প্রাণধিক পুত্র হযরত ইসমাঈল (আঃ) কে কোরবানী করতে। বৃদ্ধ বয়সের একমাত্র সন্তান হযরত ইসমাঈল (আঃ)-এর অপেক্ষা অধিকতর প্রিয় আর কি হতে পারে। তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য সিদ্ধান্তে পৌঁছলেন যে, হযরত ইসমাঈল (আঃ) কে কোরবানী করবেন। তখন তিনি হযরত ইসমাঈল (আঃ) বললেন, যা পবিত্র কোরআনে এভাবে বর্ণিত হয়েছেঃ “হে বৎস! আমি স্বপ্নে দেখেছি যে, তোমাকে আমি জবাই করছি। এখন তোমার অভিমত কি?” সে (হযরত ইসমাঈল (আঃ)) বলল, “হে পিতা! আপনি যা আদিষ্ট হয়েছেন তাই করুন। আল্লাহ চাহেতো আপনি আমাকে ধৈর্যশীলদের অন্তর্ভুক্ত পাবেন।” (সূরা সফফাত আয়াত-১০২)। ছেলের সাহসিকতাপূর্ণ জবাব পেয়ে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) অত্যন্ত খুশি হলেন। মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ছেলের গলায় ছুরি চালান। তখন হযরত জিব্রাইল (আঃ) আল্লাহর নির্দেশে বেহেশত হতে একটা দুম্বা নিয়ে রওয়ানা হলেন। তার মনে সংশয় ছিল পৃথিবীতে পদার্পণের পূর্বেই হযরত ইব্রাহীম (আঃ) যবেহ কাজ সম্পূর্ণ করে ফেলবেন। তাই জিবরাইল (আঃ) আকাশ হতে উচ্চৈস্বরে ধ্বনি দিতে থাকেন “আল্লাহু আকবার”। আওয়াজ শুনে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) স্বতঃস্ফূর্তভাবে বলে উঠলেন, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু আল্লাহু আকবার”। পিতার মুখে তাওহীদের বাণী শুনতে পেয়ে হযরত ইসমাঈল (আঃ) বলে উঠলেন আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিলহামদ”। আল্লাহর প্রিয় দুই নবী এবং হযরত জিবরাইল (আঃ)-এর কালামগুলো আল্লাহর দরবারে এতই পছন্দনীয় হলো যে, কিয়ামত পর্যন্ত এই কথাগুলো ৯ই জিলহজ্ব ফজর থেকে আসর পর্যন্ত বিশেষ করে ঈদুল আযহার দিনে বিশ্ব মুসলিমের কণ্ঠে উচ্চারিত হতে থাকবে।

আল্লাহপাকের অসীম কুদরতে হযরত ইসমাঈল (আঃ)-এর পরিবর্তে কোরবানী হয়ে গেল একটি বেহেস্তী দুম্বা। কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেন হযরত ইব্রাহীম (আঃ)। এ সম্পর্কে মহান আল্লাহ পবিত্র কালামে ঘোষণা করেনঃ “তখন আমি তাকে ডেকে বললাম, হে ইব্রাহীম! তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ। আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের প্রতিদান দিয়ে থাকি। নিশ্চয় এটা একটা সুস্পষ্ট পরীক্ষা। আমি তার (ইসমাঈল (আঃ)-এর পরিবর্তে দিলাম জবেহ করার জন্য এক মহান জন্তু।” (সূরা সাফফাত আয়াত-১০৪-১০৭)। বর্ণিত আছে যে, হযরত ইব্রাহীম (আঃ) উপরোক্ত গায়েবী আওয়াজ শুনে হযরত জিবরাইল (আঃ)কে একটি বেহেস্তী দুম্বাসহ দেখতে পান। এ জান্নাতী দুম্বা হযরত ইব্রাহীম (আঃ) কে দেয়া হলে তিনি আল্লাহর নির্দেশে পুত্রের পরিবর্তে সেটি কোরবানী করলেন। আর তখন থেকেই শুরু হলো কোরবানীর মহান বিস্ময়কর ইতিহাস। যা অনন্তকাল ধরে সুন্নতে ইব্রাহীম হিসেবে বিশ্বের সকল মুসলমানের কাছে আজও স্মরণীয় হয়ে আছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে।
বনি ইসরাইল হজরত মুসা (আ.) এর উম্মত। তারাই আল্লাহর কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি করুণা পেয়েছেন। এমনকি তাদের জন্য আল্লাহ বেহেশত থেকে খাবারও পাঠিয়েছেন। তাদের হেদায়েতের জন্য সবচেয়ে বেশি নবী-রাসুল পাঠিয়েছেন। কিন্তু মুষ্ঠিমেয় লোক ছাড়া বেশিরভাগই অবিশ্বাসী ছিল। সেই অবাধ্য বনি ইসরাইলদেরই যখন আল্লাহ আদেশ করলেন একটি গরু কোরবানি করতে, তখন মুখে ‘না’ শব্দটি না বললেও অযথা নানা প্রশ্ন ছুঁড়তে শুরু করে যাতে কোরবানি না করতে হয়। কেমন গরু, রঙ কী, বয়স কত? ইত্যাদি সব প্রশ্ন। মহান আল্লাহও তাদের প্রশ্নের বিপরীতে বলেছেন, গরু অবশ্যই মধ্যবয়সী ষাঁড় হতে হবে। যে গরু কৃষিকাজে ব্যবহৃত হয়নি, রোগমুক্ত ও নিখুঁত। বুড়ো বা বাছুর চলবে না। গরুর রঙ হবে গাঢ় পীতবর্ণের, যা সবার কাছে পছন্দনীয়। সূরা বাকারার ৬৭ থেকে ৭৩ নম্বর আয়াতে এর বিস্তর বিবরণ রয়েছে।
কোরবানির পশু হিসেবে গরু : পবিত্র কোরআন ও হাদিসে গরুকে উটের সঙ্গে তুলনা করে কোরবানির উট ও গরুতে সাত শরিক হওয়ার কথা প্রমাণিত রয়েছে। জাবের (রা.) বলেন, ‘আমরা হজের ইহরাম বেঁধে রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সঙ্গে বের হলাম। তিনি আমাদের আদেশ করলেন যেন আমরা প্রতিটি উট ও গরুতে সাতজন করে শরিক হয়ে কোরবানি করি।’ (মুসলিম)। হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) তার স্ত্রীদের পক্ষ থেকে গরু কোরবানি করেছেন।’ (বোখারি, মুসলিম)। 

বাংলাদেশে কোরবানির পশু হিসেবে গরুই সহজ ও সুলভ। ষাঁড়, বলদ, গাভি সবকিছুই কোরবানির উপযুক্ত। দুই বছর বয়স হলেই গরু কোরবানি করা যায়। ষাঁড় অত্যন্ত দামি পশু। বিপুল দামে  কৃষক তা বিক্রি করে এবং ক্রেতারা ক্রয় করে তা আল্লাহর ওয়াস্তে কোরবানি করেন। 

 সনাতন শাস্র সামবেদের একটি উদৃতি :
সামবেদে মুহাম্মদের (দঃ) পরিচয় বর্ণনা করে বলা হয়েছে - যার নামের প্রথম অক্ষর 'ম' এবং শেষ অক্ষর 'দ' হবে এবং গো মাংস খাওয়ার আদেশ দিবেন, সেই দেবতাই হবে আমাদের সবচেয়ে বড় দেবতা।
"মদৌ বর্তিতা দেবা দকারান্তেপ্রকৃত্তিতা।
বৃষানাং বক্ষয়েত্‍ সদা মেদাশাস্ত্রেচস্মৃতা \\"


অর্থঃ  "যে দেবের নামের প্রথম অক্ষর"ম" ও শেষ অক্ষর "দ" এবং

যিনি বৃষমাংস (গরুর মাংস) ভক্ষণ সর্বকালের জন্য পুনঃ বৈধ করিবেন,
তিনিই হইবেন বেদানুযায়ী ঋষি।"
গরুর মাংসের বিষয়ে বিজ্ঞান :
আমাদের শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ৯টি পুষ্টি উপাদান আছে গরুর মাংসে।এগুলো হলো প্রোটিন, জিঙ্ক, ভিটামিন বি১২, সেলেনিয়াম,ফসফরাস, নায়াসিন, ভিটামিন বি৬, আয়রন এবং রিবোফ্লেভিন। প্রোটিন শরীরের পেশী গঠনে ভূমিকা রাখে, জিঙ্ক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ফসফরাস দাত ও হাড়ের শক্তি বাড়ায়, আয়রন শরীরের পেষি গুলোতে অক্সিজেন প্রবাহে সহায়ত করে এবং ভিটামিন বি১২ খাদ্য থেকে শক্তি যোগান দেয়।
বর্ধনশীল বাচ্চা বা টিনএজার দের সমর্থ ও শক্তিশালী করে গড়ে তুলতে গরুর মাংসের তুলনা নেই।তবে বয়স্কদের যারা কায়িক পরিশ্রম করেন না,যাদের ডায়বেটিশ ও হার্টের সমস্যা আছে তারা ডাক্তারের পরামর্শ মতে খেতে পারেন।অর্থাত বয়স্কদের খেতে হবে বুঝে শুনে ।


বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

Arlette Matthijs,monty k & MOUTI Sakour




মৃত্যুর পর কি হবে !

যার জন্ম আছে তার মৃত্যু হওয়া স্বাভাবিক আমাদের সকলের একদিন না একদিন মৃত্যু হবেই মৃত্যু নিয়ে যারা চিন্তা করেন তারা জীবনে ভুল কাজ কম করেন আর যারা মৃত্যুকে ভয় পায় না, তারা কোন কিছু করতে ভয় পান নাআমাদের জীবনের সবচেয়ে বড় রহস্য হল মৃত্যুর পরে আমাদের কি হবে সে সম্পর্কে আমরা সঠিকভাবে জানিনা
  একটি নতুন জরিপ অনুসারে দেখা যায় ৬৮ শতাংশ লোক মৃত্যুর পরে কি হবে তা নিয়ে বেশ চিন্তিত থাকেন তারা নিজেদের সবসময় বলে থাকেন, জীবনে তারা এমন কিছু করেন নি যে, সে জন্য তারা জান্নাতে যেতে পারবেন তারা মৃত্যুর পর জাহান্নামে যাবে বা অনেক কষ্টে থাকবে এরকম চিন্তা থাকে তাদের মাঝেযখন তাদের প্রশ্ন করা হয় আপনারা মৃত্যুর পর কোথায় থাকবেন বলে মনে হয়তখন ,৭৭০ জনের মাঝে ১০ শতাংশ লোক বলেন তাদের হয়ত জাহান্নামে যেতে হবেতারা বিষয় নিয়ে অনেক গবেষণা করে দেখতে পান, প্রতি দশ জনের মাঝে একজন মৃত্যুর পরের সময় নিয়ে অনেক বেশি চিন্তা করেন কিন্তু আপনি যদি ছেলে হয়ে থাকেন তাহলে এই সংখ্যা প্রতি সাত জনের মাঝে একজনমনে ভয় থাকার কারণে ২৭ শতাংশ মানুষ সারাজীবন বেঁচে থাকতে চায় অর্থাৎ তারা কখনও মৃত্যুর স্বাদ নিতে চায় না তবে ৯০ বছর হয়ে যাবার পর অনেকেই পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে চায় নামৃত্যুই জীবনের শেষ নয় সেখান থেকে আরেকটি নতুন অধ্যায়ের শুরু তাই আগামী অধ্যায়ের জন্য এই অধ্যায় ভালভাবে সম্পন্ন করুন

সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

Pope Francis 'biggest Muslim Saudi King'



The refugee crisis in the Persian Gulf countries has sparked harsh criticism against the inactive role. In particular, countries such as Germany and Austria are treated humanely pressure on Arab countries.
The 'Christian' Europe one after another of the administration and the people of Syria, "Muslim" refugees are warmly welcome. The Christians of Europe are calling for the refugees, even the Pope himself.

 he "Muslim" refugees to the Gulf countries alone, their situation is the ultimate boredom. As a result of the news media and social media have become vocal.
#arabconscience has been launched by a hashtag.
Genara team that shares a report questioning, the Gulf countries, where are you?
Arab countries in the Gulf region, the role of negative criticism, joined Mark Mac tune.
Refugee crisis on countries in the Gulf, but the government failed to do so many people feel ashamed - James has shared a report grid.
Khalid Latif think, the Pope is due to her recent role in Saudi Arabia's king more than the 'Muslims'.
Wrote one Twitter user dissatisfaction with disgorge, Saudi Arabia and the Gulf countries in the Muslim leaders, whom Islam does not have the slightest effect.
Dinuksi kirtisinhe wrote, "Your religion has taught you this? Muslim brother will not need help? "
Sabrina In the case of refugees, Pakistan, Egypt, Turkey and Lebanon, referring to the Gulf countries and the role of the religious duty of Muslims questioned.
In this context, reminds Karen sugar, Saudi Arabia 100 million dollars to buy weapons for the time being busy with America.


রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৫

জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প

জীবনের গল্প আছে বাকি অল্প।
যা কিছু দেখার নাও দেখে নাও
যা কিছু বলার যাও বলে যাও
পাবে না সময় আর হয়ত।।

ঐ ঘাসের কাফনেতে দেখ আকাশ আছে শুয়ে
ঐ বরফ গলা নদী নামে পাহাড় যে বেয়ে
নীড়ে পাখি ফিরে যাবে সূর্যটা গেলে অস্ত।।
যা কিছু দেখার নাও দেখে নাও
যা কিছু বলার যাও বলে যাও
পাবে না সময় আর হয়ত।।

এই রঙ্গিন পৃথিবীতে কত মানুষ এলো গেল
এই আশা যাওয়ার পথে দেখ চেনা যানা হল
ভুলে যেতে হবে সবই পথ চলা হবে অন্ত
যা কিছু দেখার নাও দেখে নাও
যা কিছু বলার যাও বলে যাও
পাবে না সময় আর হয়ত।

      শিল্পীঃ এন্ড্রু কিশোর
      সুরকারঃ আলম খান
      গীতিকারঃ মোঃ মনিরুজ্জামান মনির